ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এক চরম স্নায়ুক্ষয়ী ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য জাদুতে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আফ্রিকান পরাশক্তি মিশরের বিপক্ষে এই অবিশ্বাস্য জয়ে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আট নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে এমন রোমাঞ্চকর রূপকথার জয়ের রাতেও প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার কারণে নিজের ওপর তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের ভেতরের চরম হতাশা লুকাতে পারেননি মেসি। তিনি বলেন, “পেনাল্টি মিস করার পর আমি নিজের ওপর ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম। যেভাবে আমি শটটা নিয়েছিলাম, তাতে মাঠে দাঁড়িয়ে আমার কেবলই মনে হচ্ছিল—আমি বোধহয় আজ পুরো দলটাকেই ডুবিয়ে দিলাম।”
ম্যাচের শুরু থেকেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে মিশর। ম্যাচের মাত্র ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় ফারাওরা। তবে চার মিনিট পরেই পেনাল্টি পেয়ে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে স্পট-কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। তাঁর নেওয়া শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের অতন্দ্র প্রহরী ও গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপে এটি ছিল লিওনেল মেসির নেওয়া অষ্টম পেনাল্টি, যার মধ্যে চারবারই তিনি বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া টাইব্রেকার বাদে বিশ্বকাপের কোনো একক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের পাতায় নাম লেখালেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।
ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার চরম শঙ্কায় পড়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। তবে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ ১২ মিনিটে রূপকথার মতো তিনটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানের এক রুদ্ধশ্বাস জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর মেসি তাঁর সতীর্থদের মানসিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও বিশ্বকাপে এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো মোটেও সহজ কাজ নয়। তবে এই দলটা আরও একবার প্রমাণ করেছে, যা আমি আগে অনেকবার বলেছি। আমি ওদের খুব ভালো করে চিনি, জানি তারা কতটা কঠোর পরিশ্রম করতে পারে। এই দল লড়াই করতে জানে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস রাখতে জানে। এমন একঝাঁক যোদ্ধার পাশে থাকাটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। আমরা এখন যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করতে প্রস্তুত।”
এই অবিস্মরণীয় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখা আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ ইউরোপের পরাশক্তি সুইজারল্যান্ড। সেমিফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক লড়াইয়ে আগামী ১২ জুলাই কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।

















