সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি ফেসবুক রিল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে নতুন করে দেশজুড়ে নেটদুনিয়ায় চর্চা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে নেটিজেনদের একাংশ যখন নানা কটূক্তি ও সাইবার বুলিংয়ে মেতে উঠেছেন, অন্যদিকে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ ও সুশীল সমাজ শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন।
সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হওয়া প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল সম্প্রতি কালবেলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুরো বিষয়টি খোলাসা করেন। তিনি জানান, ভিডিওটি কোনোভাবেই স্কুল চলাকালীন ক্লাসরুমে রেকর্ড করা হয়নি; বরং স্কুল ছুটির পর সহকর্মীর সহায়তায় স্কুলের আঙিনাতেই ধারণ করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামক একটি আনঅফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে ও নেতিবাচক ক্যাপশন জুড়ে দিয়ে আসিফ ইকবাল হিরণ নামের এক প্রবাসী তরুণ ভিডিওটি ভাইরাল করে তাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ক্ষুব্ধ বিউটি রানী পাল বলেন, “আমি মূলত কীভাবে রিল বানাতে হয় তা জানতাম না। ছুটির পর এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করার সময় তিনি ভিডিওটি ধারণ করেন। অথচ ওই প্রবাসী তরুণ আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ না করার ক্ষোভে ভিডিওটি ডাউনলোড করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেন।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “আমরা মুখে ডিজিটাল কারিকুলাম ও স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলব, আর আমাদের চিন্তাভাবনা থাকবে সংকীর্ণ—তা হতে পারে না। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে শিক্ষকদের মানসিকতার স্বাধীনতা দিতে হবে।” কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর নিয়ম থাকলেও, এভাবে ট্রল করে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ‘শিক্ষক সুরক্ষা আইন’ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
অভিযুক্ত প্রবাসী আসিফ ইকবাল হিরণের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তিনি কেবল বক্তব্য জানতে চেয়েছিলেন। তবে তার পরিচালিত পেজটির কোনো আইনি নিবন্ধন নেই বলেও তিনি স্বীকার করেন। এদিকে কোনো আইনি ঝামেলায় না গিয়ে সারা দেশের বিবেকবান মানুষের অকৃত্রিম নৈতিক সমর্থনকেই নিজের বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন এই শিক্ষিকা।
















