ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মিরপুর ও ফার্মগেটে তল্লাশি, মিলল পান-জর্দার কৌটা

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানীর ব্যস্ততম দুটি মেট্রোরেল স্টেশন—মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের নিচে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে বোমাসদৃশ দুটি পরিত্যক্ত বস্তুকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও স্থানীয় পথচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্পেশাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তু দুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তবে অনুসন্ধানের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানিয়েছে, বস্তু দুটির ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান ছিল না। এ ঘটনায় নগরবাসীকে অনাকাঙ্ক্ষিত আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

 

 

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট এলাকায় সন্দেহজনক দুটি ব্যাগ ও বস্তা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। সংবাদের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলে সিটিটিসির বিশেষ দল।

 

 

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পড়ে থাকা একটি সন্দেহজনক ব্যাগ এক্স-রে স্ক্যান করা হয়। স্ক্যানারে কৌটাসদৃশ কিছুর অবয়ব দেখা গেলে প্রমিত নিরাপত্তা প্রোটোকল (SOP) মেনে ‘ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর’ প্রয়োগ করে ব্যাগটি নিস্ক্রিয় করা হয়। তবে পরবর্তীতে ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, ভেতরে অতি সাধারণ পান ও একটি জর্দার কৌটা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

 

 

অন্যদিকে, তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেট এলাকায় পড়ে থাকা একটি পরিত্যক্ত বস্তাকে ঘিরে সৃষ্ট আতঙ্ক প্রসঙ্গে ডিসি নিয়াজ মেহেদী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্থানটি কর্ডন করে ম্যানুয়াল (হ্যান্ড এন্ট্রি) প্রক্রিয়ায় বস্তাটি পরীক্ষা করে। এতেও কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ক্ষতিকারক দ্রব্যের উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।

 

 

নগরবাসীর নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কোনো স্থানে সন্দেহজনক বস্তু বা পরিস্থিতি চোখে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

মিরপুর ও ফার্মগেটে তল্লাশি, মিলল পান-জর্দার কৌটা

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

Update Time : ১১:১২:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানীর ব্যস্ততম দুটি মেট্রোরেল স্টেশন—মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের নিচে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে বোমাসদৃশ দুটি পরিত্যক্ত বস্তুকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও স্থানীয় পথচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্পেশাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তু দুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তবে অনুসন্ধানের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানিয়েছে, বস্তু দুটির ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান ছিল না। এ ঘটনায় নগরবাসীকে অনাকাঙ্ক্ষিত আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

 

 

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট এলাকায় সন্দেহজনক দুটি ব্যাগ ও বস্তা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। সংবাদের সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলে সিটিটিসির বিশেষ দল।

 

 

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পড়ে থাকা একটি সন্দেহজনক ব্যাগ এক্স-রে স্ক্যান করা হয়। স্ক্যানারে কৌটাসদৃশ কিছুর অবয়ব দেখা গেলে প্রমিত নিরাপত্তা প্রোটোকল (SOP) মেনে ‘ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর’ প্রয়োগ করে ব্যাগটি নিস্ক্রিয় করা হয়। তবে পরবর্তীতে ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, ভেতরে অতি সাধারণ পান ও একটি জর্দার কৌটা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

 

 

অন্যদিকে, তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেট এলাকায় পড়ে থাকা একটি পরিত্যক্ত বস্তাকে ঘিরে সৃষ্ট আতঙ্ক প্রসঙ্গে ডিসি নিয়াজ মেহেদী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্থানটি কর্ডন করে ম্যানুয়াল (হ্যান্ড এন্ট্রি) প্রক্রিয়ায় বস্তাটি পরীক্ষা করে। এতেও কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ক্ষতিকারক দ্রব্যের উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।

 

 

নগরবাসীর নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কোনো স্থানে সন্দেহজনক বস্তু বা পরিস্থিতি চোখে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।