সংগৃহীত ছবি
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দেওয়া একটি কথিত অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক অভিনব প্রতিবাদের জন্ম হয়েছে। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ফেসবুকে চালু হয়েছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ নামের একটি পেজ, যা কোনো আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক রূপ না পেলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অনেকে একে ভারতের আলোচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বাংলাদেশি সংস্করণ হিসেবে দেখছেন।
টানা ভারী বৃষ্টি আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই আন্দোলনের সবশেষ খবর, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে দিনভর আলোচনায় ছিল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ পেজটি। সোমবার মধ্যরাতে ব্যক্তিগত ব্লগের ক্যাটাগরিতে খোলা এই পেজে মঙ্গলবার বিকেল গড়াতেই অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। পেজটির পরিচিতি বা বায়োতে লেখা হয়েছে— “আমরা অপমানিত হইনি, জাগ্রত হয়েছি।” শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, দিনভর রাজধানীর উত্তরা থেকে শুরু করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার সড়কগুলোতেও শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ঘুরেফিরে এসেছে ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দটি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মুখে ‘তুমি কে, আমি কে/ ফার্মের মুরগি’ কিংবা ‘কে বলেছে, কে বলেছে/ শিক্ষামন্ত্রী’— এমন সব ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান শোনা যায়।
এই আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা অডিও ক্লিপটিতে এক পুরুষ কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “আমি এভাবে মিটিংয়ে বলতেছিলাম যে, এরা (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) তো ফার্মের মুরগি, কিন্তু মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে, আমার মেয়ের তাই হয়…।” আন্দোলনকারীদের দাবি, এই কণ্ঠটি স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রীর। তবে এই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে কথা বলতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো সমান সুযোগ নিশ্চিত না করেই এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে বিক্ষোভরত ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মহসিন শেখ বলেন, “বন্যাদুর্গত এলাকার অনেক সহপাঠী ঠিকমতো কেন্দ্রে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। এর ওপর আমাদের নিয়ে এমন অবমাননাকর মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না।
” বিএএফ শাহীন কলেজের আরেক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলে আমাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। তার ওপর পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলায় আমরা শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ ও জবাবদিহিতা দাবি করছি।” এদিকে, পেজটির পেছনে কারা আছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ফলোয়ারের তালিকায় রাজনৈতিক দল এনসিপির কয়েকটি আঞ্চলিক শাখা এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির ভেরিফায়েড পেজের উপস্থিতি দেখা গেছে।















