সংগৃহীত ছবি
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সে তুরস্কের ফুটবলাররা খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও, মাঠের বাইরে গ্যালারি কাঁপিয়ে বিশ্বজুড়ে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন দলটির এক রহস্যময় সমর্থক। অদ্ভুত ও বিচিত্র বেশভূষার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তাঁকে নিয়ে তুমুল তোলপাড় চলছে। ‘উদি নেকো’ (Udi Neko) ছদ্মনামের এই তুর্কি সমর্থক প্রথম নজর কাড়েন গত ১৪ জুন কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তুরস্কের ম্যাচ চলাকালীন। গ্যালারিতে ক্যামেরার লেন্স আচমকা তাঁর ওপর পড়ার পর থেকেই তিনি রাতারাতি ইন্টারনেট সেনসেশনে পরিণত হন।
প্রথম দেখায় যে কারও পিলে চমকে যাওয়ার মতো এই রূপের পুরো মুখমণ্ডল কুচকুচে কালো রঙে ঢাকা, মাথার চুল আর চোখজোড়া ধবধবে সাদা এবং মুখের অবয়বজুড়ে রয়েছে একগাল লম্বা সাদা দাড়ি। তবে এই ভীতিজাগানিয়া ও বিচিত্র রূপের আড়ালে লুকিয়ে আছে ফুটবলের প্রতি এক উথাল-পাথাল ভালোবাসা। গ্যালারিতে ‘উদি নেকো’ নামে পরিচিতি পেলেও তাঁর আসল নাম নেজদেত ওলচেরমান। বিশ্বকাপের সৌজন্যে বৈশ্বিক ফুটবল অঙ্গন তাঁকে নতুন করে চিনলেও, নিজ দেশ তুরস্কে তিনি বহু আগে থেকেই অত্যন্ত পরিচিত এক মুখ। ওলচেরমান মূলত তুর্কি জায়ান্ট ক্লাব ‘বেসিকতাস’-এর একনিষ্ঠ সমর্থক। প্রিয় দল যখনই ঘরের মাঠ তুপরাস স্টেডিয়ামে খেলতে নামে, তখনই গ্যালারিতে এই চিরচেনা রূপে হাজির হন তিনি। ক্লাব ফুটবলের সেই চিরন্তন আবেগই তিনি এবার বিশ্বমঞ্চে জাতীয় দলের জার্সিতে বয়ে নিয়ে এসেছেন। নিজেকে এমন ভিন্ন রূপে দাঁড় করাতে প্রতি ম্যাচের আগে আয়নার সামনে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিখুঁতভাবে সাজেন ওলচেরমান।
তবে এই কষ্টসাধ্য সাজ শুধুই সস্তা বিনোদন নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর এক ফুটবল দর্শন। ওলচেরমান জানান, এইরূপ মূলত ‘ব্ল্যাক বুল’ বা ‘কালো ষাঁড়’-এর প্রতীক, যা মাঠে ও গ্যালারিতে শক্তি, সহনশীলতা আর কখনো হার না মানার এক অদম্য মানসিকতাকে ফুটিয়ে তোলে। ‘উদি নেকো’ নামটির পেছনেও রয়েছে একটি সুন্দর গল্প। ‘নেকো’ শব্দটি এসেছে তাঁর আসল নাম নেজদেতের চলিত সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে এবং তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘উদ’ (Oud) বাজাতে পারদর্শী হওয়ায় তাঁকে মূলত ‘উদি’ বলা হয়। ফুটবলের প্রতি এমন নিখাদ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখে বেসিকতাস ক্লাব কর্তৃপক্ষও ওলচেরমানকে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছে।
অথচ সবচেয়ে চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য হলো—ফুটবল কিংবা বিনোদন জগতের সাথে ওলচেরমানের পেশাগত জীবনের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। বাস্তব জীবনে তিনি একজন সফল জুয়েলারি বা স্বর্ণ ব্যবসায়ী। কেবল ব্যবসায়ীই নন, রহস্যময় এই চরিত্রের মানুষটি অতীতে তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন, অর্থাৎ তিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। চলতি বিশ্বকাপে তুরস্কের পরের রাউন্ডে যাওয়ার গাণিতিক স্বপ্নটা আগেই শেষ হয়ে গেলেও, আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দলটির মুখোমুখি হবে শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্র। তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সেই ম্যাচে দল হারুক কিংবা জিতুক, নিজের এই চেনা রাজকীয় সাজে ঠিকই গ্যালারিতে হাজির হয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চিৎকার করবেন ‘উদি নেকো’।

















