ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের নাটকীয় জয়, সমালোচককে নেইমারের খোঁচা

‘খেলা না খেলা বড় কথা নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েই বাড়ি ফিরব’

চ্যাম্পিয়ন হতেই বিশ্বকাপে খেলতে আসছেন নেইমার। ছবি : রয়টার্স

 

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে প্রথমার্ধে জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর গ্যালারি থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সেলেসাও ভক্তের মনে একটাই প্রার্থনা ছিল—মাঠে নামুন নেইমার, হয়ে উঠুন দলের ত্রাণকর্তা। তবে প্রথমার্ধের বিরতি কাটিয়ে দল মাঠে নামলেও সাইড বেঞ্চেই বসে থাকতে দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টারকে। চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনা ছিল একটু ভিন্ন ও সতর্ক। তবে নেইমারকে মাঠে না নামিয়েও ডাগআউটে বসে নিজের কোচিংয়ের আসল ‘মাস্টারক্লাস’ দেখিয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।

 

 

ম্যাচের চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে অসাধারণ ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা এবং সঠিক সময়ে খেলোয়াড় বদল (সাবস্টিটিউশন) করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আনচেলত্তি। স্নায়ুচাপ ধরে রেখে কীভাবে খাদের কিনারা থেকে কামব্যাকের মহাকাব্য লিখতে হয়, হিউস্টনে সেটাই প্রমাণ করলেন তিনি। কোচের জাদুকরি কৌশলে ভর করে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তের যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) গোল আদায় করে নেয় ব্রাজিল। ফলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

 

এমন রোমাঞ্চকর জয়ের পর মাঠে নামতে না পারার কোনো হতাশা ছুঁতে পারেনি নেইমারকে। ম্যাচ শেষে তার ড্রেসিংরুমের মেজাজ যে কতটা চনমনে ছিল, তার প্রমাণ মেলে বিখ্যাত জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্তকে দেওয়া তার একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খোঁচায়। ম্যাচ শুরুর আগে এই অর্থনীতিবিদ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে জাপান ব্রাজিলকে হারিয়ে দেবে। দল জেতার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নেইমার তাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “জোয়াকিম ক্লেমেন্তে, দয়া করে আগামী বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করবেন।” নেইমারের এই রসবোধ ও খোঁচা মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

 

 

এদিকে নিজে এক মিনিটও মাঠে না নামার বিষয়ে ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের উদারতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন নেইমার। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের জয় এবং বিশ্বজয়ই তার একমাত্র লক্ষ্য। নেইমার বলেন, “নক আউট পর্বে বা শেষ ১৬-তে কোয়ালিফাই করায় আমি খুবই আনন্দিত। দল দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে এবং আশা করি এই পারফরম্যান্স আমরা ধরে রাখতে পারব।” নিজের ফিটনেস নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এখন পুরোপুরি ফিট, দল যখনই প্রয়োজন মনে করবে, মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। আমি খেলছি কি খেলছি না, সেটা বড় কথা নয়। আমরা এখানে বিশ্বকাপ জিততে এসেছি এবং আশা করি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েই বাড়ি ফিরব।”

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের নাটকীয় জয়, সমালোচককে নেইমারের খোঁচা

‘খেলা না খেলা বড় কথা নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েই বাড়ি ফিরব’

Update Time : ১১:১৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

চ্যাম্পিয়ন হতেই বিশ্বকাপে খেলতে আসছেন নেইমার। ছবি : রয়টার্স

 

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে প্রথমার্ধে জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর গ্যালারি থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সেলেসাও ভক্তের মনে একটাই প্রার্থনা ছিল—মাঠে নামুন নেইমার, হয়ে উঠুন দলের ত্রাণকর্তা। তবে প্রথমার্ধের বিরতি কাটিয়ে দল মাঠে নামলেও সাইড বেঞ্চেই বসে থাকতে দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টারকে। চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনা ছিল একটু ভিন্ন ও সতর্ক। তবে নেইমারকে মাঠে না নামিয়েও ডাগআউটে বসে নিজের কোচিংয়ের আসল ‘মাস্টারক্লাস’ দেখিয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।

 

 

ম্যাচের চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে অসাধারণ ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা এবং সঠিক সময়ে খেলোয়াড় বদল (সাবস্টিটিউশন) করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আনচেলত্তি। স্নায়ুচাপ ধরে রেখে কীভাবে খাদের কিনারা থেকে কামব্যাকের মহাকাব্য লিখতে হয়, হিউস্টনে সেটাই প্রমাণ করলেন তিনি। কোচের জাদুকরি কৌশলে ভর করে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তের যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) গোল আদায় করে নেয় ব্রাজিল। ফলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

 

 

এমন রোমাঞ্চকর জয়ের পর মাঠে নামতে না পারার কোনো হতাশা ছুঁতে পারেনি নেইমারকে। ম্যাচ শেষে তার ড্রেসিংরুমের মেজাজ যে কতটা চনমনে ছিল, তার প্রমাণ মেলে বিখ্যাত জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্তকে দেওয়া তার একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খোঁচায়। ম্যাচ শুরুর আগে এই অর্থনীতিবিদ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে জাপান ব্রাজিলকে হারিয়ে দেবে। দল জেতার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নেইমার তাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “জোয়াকিম ক্লেমেন্তে, দয়া করে আগামী বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করবেন।” নেইমারের এই রসবোধ ও খোঁচা মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

 

 

এদিকে নিজে এক মিনিটও মাঠে না নামার বিষয়ে ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের উদারতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন নেইমার। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের জয় এবং বিশ্বজয়ই তার একমাত্র লক্ষ্য। নেইমার বলেন, “নক আউট পর্বে বা শেষ ১৬-তে কোয়ালিফাই করায় আমি খুবই আনন্দিত। দল দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে এবং আশা করি এই পারফরম্যান্স আমরা ধরে রাখতে পারব।” নিজের ফিটনেস নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এখন পুরোপুরি ফিট, দল যখনই প্রয়োজন মনে করবে, মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। আমি খেলছি কি খেলছি না, সেটা বড় কথা নয়। আমরা এখানে বিশ্বকাপ জিততে এসেছি এবং আশা করি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েই বাড়ি ফিরব।”