ঢাকা , শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানে জিলানীর প্রতিশ্রুতি; দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি ক্ষমতার অপব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি।

‘রাস্তা করে দেব মা, এটা আমার দায়িত্ব’: কোটালীপাড়ায় সম্প্রীতির অনন্য নজির এস এম জিলানীর

গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হওয়ার পর এক অন্যরকম মানবিকতায় উজ্জ্বল হলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কোটালীপাড়ার উনশিয়া ভট্রের বাগানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দল-মতনির্বিশেষে মানুষের সেবক হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে রজগীনি কর্মকার নামে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা তাঁর বাড়ির রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানালে জিলানী পরম মমতায় উত্তর দেন, “আমি আপনার বাড়িতে প্রবেশের রাস্তাটি করে দেব ‘মা’, এটা আমার দায়িত্ব।” নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের এমন অমায়িক ও দায়িত্বশীল আচরণে উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

 

 

উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে এস এম জিলানী বলেন, কোটালীপাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা তাঁকে যেভাবে ভোট দিয়ে এবং ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে আপন করে নিয়েছেন, তাতে তিনি অভিভূত। তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে আশীর্বাদ করবেন যেন আমি আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে পারি এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে তিনি এই জনপদের মানুষের পাশে থাকবেন।

 

 

এরপর কোটালীপাড়া উপজেলা সদরের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এস এম জিলানী দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ যদি সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করে, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমি নিজেও অন্যায় করব না, কাউকে করতেও দেব না।” রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়—ইতিহাসের এই অমোঘ সত্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি ঘোষণা করেন যে, নির্বাচনের আগে তিনি একটি দলের প্রার্থী থাকলেও এখন তিনি কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার সর্বস্তরের জনগণের প্রতিনিধি এবং তাঁর কাছে সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে সাড়া না দেয়ায় ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ট্রাম্প

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানে জিলানীর প্রতিশ্রুতি; দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি ক্ষমতার অপব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি।

‘রাস্তা করে দেব মা, এটা আমার দায়িত্ব’: কোটালীপাড়ায় সম্প্রীতির অনন্য নজির এস এম জিলানীর

Update Time : ০২:২৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হওয়ার পর এক অন্যরকম মানবিকতায় উজ্জ্বল হলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কোটালীপাড়ার উনশিয়া ভট্রের বাগানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দল-মতনির্বিশেষে মানুষের সেবক হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে রজগীনি কর্মকার নামে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা তাঁর বাড়ির রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানালে জিলানী পরম মমতায় উত্তর দেন, “আমি আপনার বাড়িতে প্রবেশের রাস্তাটি করে দেব ‘মা’, এটা আমার দায়িত্ব।” নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের এমন অমায়িক ও দায়িত্বশীল আচরণে উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

 

 

উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে এস এম জিলানী বলেন, কোটালীপাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা তাঁকে যেভাবে ভোট দিয়ে এবং ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে আপন করে নিয়েছেন, তাতে তিনি অভিভূত। তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে আশীর্বাদ করবেন যেন আমি আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে পারি এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁর জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে তিনি এই জনপদের মানুষের পাশে থাকবেন।

 

 

এরপর কোটালীপাড়া উপজেলা সদরের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এস এম জিলানী দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ যদি সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করে, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমি নিজেও অন্যায় করব না, কাউকে করতেও দেব না।” রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়—ইতিহাসের এই অমোঘ সত্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি ঘোষণা করেন যে, নির্বাচনের আগে তিনি একটি দলের প্রার্থী থাকলেও এখন তিনি কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার সর্বস্তরের জনগণের প্রতিনিধি এবং তাঁর কাছে সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন।