ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঈদের কেনাকাটায় যাওয়ার পথে রিকশা থেকে পড়ে মৃত্যু

উত্তরায় ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে প্রাণ গেল গৃহবধূর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ৩৪ Time View

নিহত মুক্তা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

 

রাজধানীর উত্তরার ব্যস্ত সড়কে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মুক্তা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে এই নৃশংস চুরির ঘটনা ঘটে।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কয়েক দফা হাসপাতাল বদলের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

নিহত মুক্তার স্বামী লিমন হোসেন জানান, তারা দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় ভাড়া থাকতেন। লিমন পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক এবং মুক্তা ছিলেন গৃহিণী। সকালে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা করতে ব্যাটারিচালিত রিকশাযোগে মিরপুর পল্লবীর একটি মার্কেটে যাচ্ছিলেন মুক্তা। রিকশাটি উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে পৌঁছালে একটি চলন্ত প্রাইভেটকার থেকে ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা মুক্তার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে সজোরে হ্যাঁচকা টান দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় আছড়ে পড়েন তিনি। এতে তার মাথা ও কপালে গুরুতর আঘাত লাগে।

 

 

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিমন আরও জানান, পথচারীরা প্রথমে তাকে স্থানীয় উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার ধীরগতির কারণে তাকে দ্রুত টঙ্গীর আহসানউল্লাহ মেডিকেলে এবং পরবর্তীতে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে সবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির সুখের সংসার নিমিষেই তছনছ হয়ে গেল ছিনতাইকারীদের নিষ্ঠুরতায়।

 

 

নিহত মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামে; তার বাবার নাম আব্দুল জলিল। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে মর্গে রাখা হয়েছে। তুরাগ থানা পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং ঘাতক প্রাইভেটকার ও ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ শুরু করেছে। ঈদের আগমুহূর্তে রাজধানীতে এমন নিরাপত্তা সংকটে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ঈদের কেনাকাটায় যাওয়ার পথে রিকশা থেকে পড়ে মৃত্যু

উত্তরায় ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে প্রাণ গেল গৃহবধূর

Update Time : ০৬:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

নিহত মুক্তা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

 

রাজধানীর উত্তরার ব্যস্ত সড়কে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মুক্তা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে এই নৃশংস চুরির ঘটনা ঘটে।

 

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কয়েক দফা হাসপাতাল বদলের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে দুপুর ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

নিহত মুক্তার স্বামী লিমন হোসেন জানান, তারা দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় ভাড়া থাকতেন। লিমন পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক এবং মুক্তা ছিলেন গৃহিণী। সকালে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা করতে ব্যাটারিচালিত রিকশাযোগে মিরপুর পল্লবীর একটি মার্কেটে যাচ্ছিলেন মুক্তা। রিকশাটি উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের নিচে পৌঁছালে একটি চলন্ত প্রাইভেটকার থেকে ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা মুক্তার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে সজোরে হ্যাঁচকা টান দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় আছড়ে পড়েন তিনি। এতে তার মাথা ও কপালে গুরুতর আঘাত লাগে।

 

 

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিমন আরও জানান, পথচারীরা প্রথমে তাকে স্থানীয় উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার ধীরগতির কারণে তাকে দ্রুত টঙ্গীর আহসানউল্লাহ মেডিকেলে এবং পরবর্তীতে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে সবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির সুখের সংসার নিমিষেই তছনছ হয়ে গেল ছিনতাইকারীদের নিষ্ঠুরতায়।

 

 

নিহত মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার সোনাপাড়া গ্রামে; তার বাবার নাম আব্দুল জলিল। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে মর্গে রাখা হয়েছে। তুরাগ থানা পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং ঘাতক প্রাইভেটকার ও ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ শুরু করেছে। ঈদের আগমুহূর্তে রাজধানীতে এমন নিরাপত্তা সংকটে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।