ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের চতুর্থ দিনে সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েত পর্যন্ত। সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। একই সময়ে কুয়েত, কাতার ও আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। ওয়াশিংটন এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত তাদের ছয়জন সেনার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবার ‘মোজাইক কমব্যাট’ নামক এক বিশেষ যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করেছে। এই পদ্ধতিতে ভিন্ন ভিন্ন কমান্ড স্টেশন থেকে অতর্কিত ও সমন্বয়হীন হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্তিতে ফেলা হচ্ছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে যেকোনো মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কার তাদের নজরে এলেই সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। একদিকে ইরান যখন একাই মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক ফ্রন্টে লড়ছে, অন্যদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবারই প্রথম সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিয়েছে, যা তেল আবিবকে বহুমুখী চাপে ফেলেছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান ও বৈরুতে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ)। তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বৈরুতে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের সাধারণ জনগণকে তাঁদের সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, এখনই ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। যুদ্ধের এই ভয়াবহ বিস্তার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













