সংগৃহীত ছবি
আগামী বছরের (২০২৭) প্রথম দিকেই দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশেই সম্পন্ন হবে বলে জোর আশ্বাস দেন তিনি। মন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দলীয় পরিচয়ের জোরে বাড়তি সুবিধা পাবেন না; জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই সবাইকে জয়ী হয়ে আসতে হবে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াতে ইচ্ছুক সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী—কোনো দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ আলাদা সুবিধা পাবেন না। আপনি চেয়ারম্যান, সাধারণ মেম্বার কিংবা সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য—যিনিই হতে চান না কেন, চূড়ান্ত বিচারে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেই আপনাদের নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।”
একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গঠনে স্থানীয় সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “একটি দেশের মূল গণতন্ত্র ও সার্বিক রাষ্ট্রব্যবস্থা তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী রূপ নেয়, যখন তার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর ও স্বাবলম্বী হয়। তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ ক্ষমতায়ন করা সম্ভব হলেই জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে এবং দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে। নতুন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ওয়ার্ড ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাম্প্রতিক আইন সংশোধনের ফলে এবারের ইউনিয়ন পরিষদসহ উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনগুলো আর দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, যা সাধারণ প্রার্থীদের জন্য স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণের পথ সুগম করেছে। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. পয়েন্টগাম আলী।














