সংগৃহীত ছবি
বিরোধীদল মানেই কেবল রাজপথের আন্দোলন নয়, বরং জনগণের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে কল্যাণের উদাহরণ সৃষ্টি করা—এমনটিই মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে স্থানীয় দুস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে ফুড প্যাকেট (খাদ্যসামগ্রী) বিতরণকালে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র চীনের পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার সামগ্রী বিতরণ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন
খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন:
“বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যেকার সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ হবে। এই অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করছি। আমরা বিশ্বাস করি, দুই দেশের এই যৌথ প্রচেষ্টা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনবে এবং দীর্ঘদিনের অস্থিরতা দূর করবে।”
তিনি অতীতে বিভিন্ন বিদেশি সহায়তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর পথে অন্তরায়গুলোর সমালোচনা করে বলেন, আগে জনগণের জন্য আসা চীনা সহায়তা মাঝপথে ‘হাইজ্যাক’ বা অপব্যবহার করা হয়েছে। তবে এখন থেকে সেই ধারা বন্ধ হবে এবং ভবিষ্যতে চীন আরও বেশি সংখ্যক মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান দেশের উত্তর জনপদের মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে সরব হন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল যে কোনো সাহসী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। দেশের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি হুশিয়ারি দেন।
১১ দলীয় জোটের লক্ষ্য
বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি সমমনা রাজনৈতিক দল এখন একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে—তা হলো জনগণের সেবা। সরকারের ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিকল্প সেবা প্রদানকারী হিসেবে নিজেদের জনগণের আস্থার জায়গায় নিয়ে যাওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
















