সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে কাতারের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র ‘রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’তে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার চালানো এই হামলায় উপসাগরীয় দেশটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি কেন্দ্রটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
এই হামলার প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেতিবাচক ছায়া পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত এই মুহূর্তে গভীর জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এলএনজি আমদানির সিংহভাগই আসে কাতার থেকে। কাতারের প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস এই রাস লাফান কেন্দ্রেই প্রক্রিয়াজাত এবং সেখান থেকে জাহাজে করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। হামলার ফলে এই কেন্দ্রের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই দেশগুলোতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং শিল্প-কারখানায় উৎপাদন স্থবির হয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশ কাতার থেকে সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল’ জানিয়েছে, ভারতের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি পূরণ করে কাতার। ফলে রাস লাফান থেকে সরবরাহ বন্ধ বা দীর্ঘায়িত হওয়া মানেই এই দেশগুলোর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিপর্যয় নেমে আসা।
রাস লাফান স্থাপনার পরিচালক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’ চলতি মাসের শুরুর দিকেই কিছু রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য উৎপাদন স্থগিত রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে স্থাপনাটির অবকাঠামোগত যে ক্ষতি হয়েছে, তাতে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, রাস লাফান কেবল এলএনজি উৎপাদনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সার উৎপাদন কেন্দ্র, যেখানে কৃষি খাতের অপরিহার্য উপাদান ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া তৈরি হয়। এছাড়া, বিশ্বের মোট হিলিয়াম গ্যাসের প্রায় ২৫ শতাংশ এখান থেকে সরবরাহ করা হয়, যা আধুনিক মাইক্রোচিপ তৈরির জন্য অপরিহার্য। ফলে এই কেন্দ্রে হামলার প্রভাব কৃষি থেকে শুরু করে প্রযুক্তি খাত—সব ক্ষেত্রেই বিশ্বজুড়ে এক বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 















