ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আঞ্চলিক অস্থিরতার মুখে কুয়েতে ড্রোন হানা, হতাহত নেই

কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

ছবি: রয়টার্স

 

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’র বরাত দিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি বিমানবন্দরের আকাশসীমায় বেশ কয়েকটি ড্রোন অনুপ্রবেশ করে এবং হামলা চালায়।

 

 

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে এই ঘটনাটি কুয়েতের মতো শান্ত রাষ্ট্রে নিরাপত্তার নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

 

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র জানান, কুয়েত বিমানবন্দরে এ ধরনের ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বুধবার একটি ইরানি ড্রোন বিমানবন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। বারবার এ ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতা বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

 

 

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল কুয়েতেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন এক নতুন রণাঙ্গনে মোড় নিয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সরাসরি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুতিরা লোহিত সাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি হেলিকপ্টার দিয়েও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করছে। এর ফলে বিশ্বখ্যাত জাহাজ কোম্পানিগুলো সুয়েজ খাল এড়িয়ে আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ দিয়ে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।

 

 

লোহিত সাগরের এই অস্থিরতার পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইয়েমেনে হুতিদের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ডেস্ট্রয়ার জাহাজগুলো বর্তমানে ওই অঞ্চলে টহল দিচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পরিবর্তে হরমুজ প্রণালি ইরানের কার্যত নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে, লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) হামলা অব্যাহত রয়েছে। আইডিএফ দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আকাশ ও সমুদ্রপথ থেকে কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ইসরায়েলি মুখপাত্র জাহরানি নদীর উত্তরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছেন। সব মিলিয়ে কুয়েতের বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা থেকে শুরু করে লেবানন ও লোহিত সাগরের এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

 

সূত্র : বিবিসি

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আঞ্চলিক অস্থিরতার মুখে কুয়েতে ড্রোন হানা, হতাহত নেই

কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

Update Time : ০৪:৪২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ছবি: রয়টার্স

 

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কুনা’র বরাত দিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি বিমানবন্দরের আকাশসীমায় বেশ কয়েকটি ড্রোন অনুপ্রবেশ করে এবং হামলা চালায়।

 

 

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে এই ঘটনাটি কুয়েতের মতো শান্ত রাষ্ট্রে নিরাপত্তার নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

 

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র জানান, কুয়েত বিমানবন্দরে এ ধরনের ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বুধবার একটি ইরানি ড্রোন বিমানবন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। বারবার এ ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতা বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

 

 

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল কুয়েতেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন এক নতুন রণাঙ্গনে মোড় নিয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সরাসরি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুতিরা লোহিত সাগরে জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি হেলিকপ্টার দিয়েও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করছে। এর ফলে বিশ্বখ্যাত জাহাজ কোম্পানিগুলো সুয়েজ খাল এড়িয়ে আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ দিয়ে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে।

 

 

লোহিত সাগরের এই অস্থিরতার পাল্টা জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইয়েমেনে হুতিদের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির ডেস্ট্রয়ার জাহাজগুলো বর্তমানে ওই অঞ্চলে টহল দিচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পরিবর্তে হরমুজ প্রণালি ইরানের কার্যত নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

 

অন্যদিকে, লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) হামলা অব্যাহত রয়েছে। আইডিএফ দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে আকাশ ও সমুদ্রপথ থেকে কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে ইসরায়েলি মুখপাত্র জাহরানি নদীর উত্তরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছেন। সব মিলিয়ে কুয়েতের বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা থেকে শুরু করে লেবানন ও লোহিত সাগরের এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

 

সূত্র : বিবিসি