ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিলে অনুমোদন নয়, বাদ পড়ছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও

সৌদি-মার্কিন পরমাণু চুক্তিতে ট্রাম্পের শর্ত: স্বীকৃতি দিতে হবে ইসরায়েলকে

ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

 

বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার ও পরমাণু প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি বাস্তবায়নের আগেই নতুন এক কঠিন শর্ত জুড়েই বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া পুরোপুরি নির্ভর করছে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সৌদি আরবের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দেওয়ার ওপর। শুধু তা-ই নয়, এই চুক্তির অধীনে সৌদি আরবকে নিজ মাটিতে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

 

 

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা চুক্তিটি (যেখানে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থাকবে না, কেবল বেসামরিক কাজেই পরমাণু শক্তি ব্যবহার করা যাবে) অনুমোদন করা হবে। তবে এর পূর্বশর্ত হলো সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনই অহিংস উপায়ে বেসামরিক পারমাণবিক ক্ষমতা বিকাশের বিরোধী নয়।

 

 

এর আগে রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির খুঁটিনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তির চুল্লি পাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৌদি আরবের নিজের মাটিতেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তবে চুক্তি ঘোষণার সময়ে ট্রাম্প কোনো শর্তের কথা না জানালেও আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে কোনো একটি দেশকে পারমাণবিক সক্ষমতা দিলে তা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। এই সমালোচনার পরেই নতুন শর্তের জালে চুক্তিটিকে বাঁধলেন ট্রাম্প।

 

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন চালের মুখে বড় কূটনৈতিক দ্বিধায় পড়েছে সৌদি আরব। দেশটির দীর্ঘদিনের অটল অবস্থান হলো, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে কোনো কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেবে না। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ট্রাম্পের এই নতুন শর্ত সম্পর্কে রিয়াদ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইসরায়েলি প্রশাসন ট্রাম্পের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই চুক্তি বাঁচাতে রিয়াদ তাদের ফিলিস্তিন নীতিতে কোনো নমনীয়তা আনে নাকি মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দিলে অনুমোদন নয়, বাদ পড়ছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও

সৌদি-মার্কিন পরমাণু চুক্তিতে ট্রাম্পের শর্ত: স্বীকৃতি দিতে হবে ইসরায়েলকে

Update Time : ১০:০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

 

বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার ও পরমাণু প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি বাস্তবায়নের আগেই নতুন এক কঠিন শর্ত জুড়েই বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া পুরোপুরি নির্ভর করছে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সৌদি আরবের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দেওয়ার ওপর। শুধু তা-ই নয়, এই চুক্তির অধীনে সৌদি আরবকে নিজ মাটিতে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

 

 

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা চুক্তিটি (যেখানে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থাকবে না, কেবল বেসামরিক কাজেই পরমাণু শক্তি ব্যবহার করা যাবে) অনুমোদন করা হবে। তবে এর পূর্বশর্ত হলো সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনই অহিংস উপায়ে বেসামরিক পারমাণবিক ক্ষমতা বিকাশের বিরোধী নয়।

 

 

এর আগে রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির খুঁটিনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তির চুল্লি পাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৌদি আরবের নিজের মাটিতেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তবে চুক্তি ঘোষণার সময়ে ট্রাম্প কোনো শর্তের কথা না জানালেও আন্তর্জাতিক পরমাণু বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে কোনো একটি দেশকে পারমাণবিক সক্ষমতা দিলে তা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে। এই সমালোচনার পরেই নতুন শর্তের জালে চুক্তিটিকে বাঁধলেন ট্রাম্প।

 

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন চালের মুখে বড় কূটনৈতিক দ্বিধায় পড়েছে সৌদি আরব। দেশটির দীর্ঘদিনের অটল অবস্থান হলো, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে কোনো কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেবে না। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ট্রাম্পের এই নতুন শর্ত সম্পর্কে রিয়াদ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইসরায়েলি প্রশাসন ট্রাম্পের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই চুক্তি বাঁচাতে রিয়াদ তাদের ফিলিস্তিন নীতিতে কোনো নমনীয়তা আনে নাকি মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।