যাদের মাথার ওপরে ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি, নিয়তির অমোঘ বিধানে তারাই এখন দেশের নীতিনির্ধারক। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের হাত ধরে দেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে, তার সবথেকে বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল এবারের নির্বাচনের ফলাফল। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্তি পেয়ে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে দেখছেন ‘ফাঁসির মঞ্চ থেকে সরাসরি সংসদে’ ফেরার এক অভাবনীয় উপাখ্যান হিসেবে।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হন। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছর একদিনের জন্যও জামিন পাননি তিনি। দীর্ঘ বন্দিজীবন শেষে গত বছর ১৬ জানুয়ারি তিনি মুক্তি পান এবং নিজের নির্বাচনী এলাকা নেত্রকোনায় ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। একইভাবে ২১ আগস্টের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবরণের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পান। টাঙ্গাইলের গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ নিয়ে প্রায় ২ লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি ফের সংসদে ফিরছেন।
অন্যদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামও একইরকম নাটকীয়ভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে কারাবন্দি থাকার পর গত বছরের মে মাসে তিনি মুক্তি পান। রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি বড় জয় ছিনিয়ে এনেছেন। একসময় যাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার চিরতরে শেষ হওয়ার পথে ছিল, তারা এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। এই ফলাফলটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিশোধ বনাম জনমতের এক অনন্য নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 

























