ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা ও ক্যামেরুন, আলোচনায় কার্ডের পরিসংখ্যান

বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড ব্রাজিলের

সংগৃহীত ছবি

 

বিশ্বমঞ্চে ফুটবল মানেই মাঠের তুমুল উত্তেজনা, কোটি ভক্তের উন্মাদনা আর জাদুকরী সব গোল। তবে শিরোপা জয়ের নান্দনিক মহাকাব্যের পাশাপাশি মাঠের চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খেলোয়াড়দের স্নায়ুচাপ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার নজিরও কম নয়। যার ফলে ফাউল, হাতাহাতি কিংবা আগ্রাসী আচরণের কারণে রেফারি পকেট থেকে বের করতে বাধ্য হন লাল ও হলুদ কার্ড। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জাজনক শৃঙ্খলভঙ্গকারী পরিসংখ্যানে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। জোগো বোনিতো বা সুন্দর ফুটবলের ধারক হলেও মাঠের আগ্রাসনে সেলেসাওরাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে।

 

 

বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১১৫টি ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি ১১টি লাল কার্ড (Red Card) দেখার কুখ্যাত রেকর্ড রয়েছে সাম্বার দেশ ব্রাজিলের দখলে। ব্রাজিলের ঠিক পরেই এই তালিকার যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার অদম্য সিংহখ্যাত ক্যামেরুন। এই দুই দলের ফুটবলাররাই বিশ্বমঞ্চে এ পর্যন্ত ৯টি করে লাল কার্ড দেখেছেন। তবে মজার বিষয় হলো, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার তুলনায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে অনেক কম ম্যাচ খেলেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করেছে ক্যামেরুন।

 

 

কার্ড পাওয়ার এই বিশ্বতালিকায় পরবর্তী অবস্থানে থাকা ইউরোপের পরাশক্তি নেদারল্যান্ডস, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি এবং লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী দল উরুগুয়ে প্রতিটি দলই বিশ্বকাপের বিভিন্ন আসরে ৮টি করে লাল কার্ড পাওয়ার স্বাদ পেয়েছে। এর ঠিক পরেই ৭টি করে লাল কার্ড নিয়ে তালিকার চতুর্থ সারিতে সহাবস্থান করছে ফুটবল পরাশক্তি জার্মানি ও কনকাকাফ অঞ্চলের মেক্সিকো। শীর্ষ ১০-এর বাকি দুটি শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬টি করে লাল কার্ড দেখেছে।

 

 

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, শুধু লাল কার্ডই নয়, সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড পাওয়ার তালিকাতেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও মেক্সিকোর মতো ফুটবলের বড় বড় পরাশক্তিদেরই দাপট রয়েছে। এর মূল কারণ, এই দলগুলো প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপের আসরে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে, গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে নকআউট, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের মতো উচ্চ-তীব্রতার ম্যাচ বেশি খেলে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সংখ্যা ও শিরোপার চাপ বেশি থাকার কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের কার্ডের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

এদিকে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর মাঠের ফুটবল ছাড়িয়ে আবারও রেফারি ও লাল কার্ডের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে বড় আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। চলমান আসরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর মধ্যকার একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচেই রেফারি কর্তৃক তিনটি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। আধুনিক ফুটবলে একই ম্যাচে তিনটি লাল কার্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় অত্যন্ত বিরল। উদাহরণস্বরূপ, বিগত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের পুরো আসরের ৬৪টি ম্যাচে সবমিলিয়ে দেখানো হয়েছিল মাত্র ৪টি লাল কার্ড। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন আসরে কার্ডের বন্যা বয়ে গেলেও, পরিসংখ্যানের ঐতিহাসিক খাতায় এখনো সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার রেকর্ডটি ব্রাজিলের দখলেই রয়ে গেছে।

 

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা ও ক্যামেরুন, আলোচনায় কার্ডের পরিসংখ্যান

বিশ্বকাপ ফুটবলে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড ব্রাজিলের

Update Time : ১২:৩১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

বিশ্বমঞ্চে ফুটবল মানেই মাঠের তুমুল উত্তেজনা, কোটি ভক্তের উন্মাদনা আর জাদুকরী সব গোল। তবে শিরোপা জয়ের নান্দনিক মহাকাব্যের পাশাপাশি মাঠের চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খেলোয়াড়দের স্নায়ুচাপ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার নজিরও কম নয়। যার ফলে ফাউল, হাতাহাতি কিংবা আগ্রাসী আচরণের কারণে রেফারি পকেট থেকে বের করতে বাধ্য হন লাল ও হলুদ কার্ড। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও লজ্জাজনক শৃঙ্খলভঙ্গকারী পরিসংখ্যানে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। জোগো বোনিতো বা সুন্দর ফুটবলের ধারক হলেও মাঠের আগ্রাসনে সেলেসাওরাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে।

 

 

বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১১৫টি ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি ১১টি লাল কার্ড (Red Card) দেখার কুখ্যাত রেকর্ড রয়েছে সাম্বার দেশ ব্রাজিলের দখলে। ব্রাজিলের ঠিক পরেই এই তালিকার যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও আফ্রিকার অদম্য সিংহখ্যাত ক্যামেরুন। এই দুই দলের ফুটবলাররাই বিশ্বমঞ্চে এ পর্যন্ত ৯টি করে লাল কার্ড দেখেছেন। তবে মজার বিষয় হলো, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার তুলনায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে অনেক কম ম্যাচ খেলেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত মাইলফলক স্পর্শ করেছে ক্যামেরুন।

 

 

কার্ড পাওয়ার এই বিশ্বতালিকায় পরবর্তী অবস্থানে থাকা ইউরোপের পরাশক্তি নেদারল্যান্ডস, চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি এবং লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী দল উরুগুয়ে প্রতিটি দলই বিশ্বকাপের বিভিন্ন আসরে ৮টি করে লাল কার্ড পাওয়ার স্বাদ পেয়েছে। এর ঠিক পরেই ৭টি করে লাল কার্ড নিয়ে তালিকার চতুর্থ সারিতে সহাবস্থান করছে ফুটবল পরাশক্তি জার্মানি ও কনকাকাফ অঞ্চলের মেক্সিকো। শীর্ষ ১০-এর বাকি দুটি শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬টি করে লাল কার্ড দেখেছে।

 

 

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, শুধু লাল কার্ডই নয়, সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড পাওয়ার তালিকাতেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও মেক্সিকোর মতো ফুটবলের বড় বড় পরাশক্তিদেরই দাপট রয়েছে। এর মূল কারণ, এই দলগুলো প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপের আসরে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে, গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে নকআউট, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালের মতো উচ্চ-তীব্রতার ম্যাচ বেশি খেলে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সংখ্যা ও শিরোপার চাপ বেশি থাকার কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের কার্ডের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

এদিকে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর মাঠের ফুটবল ছাড়িয়ে আবারও রেফারি ও লাল কার্ডের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে বড় আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। চলমান আসরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর মধ্যকার একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচেই রেফারি কর্তৃক তিনটি লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। আধুনিক ফুটবলে একই ম্যাচে তিনটি লাল কার্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় অত্যন্ত বিরল। উদাহরণস্বরূপ, বিগত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের পুরো আসরের ৬৪টি ম্যাচে সবমিলিয়ে দেখানো হয়েছিল মাত্র ৪টি লাল কার্ড। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন আসরে কার্ডের বন্যা বয়ে গেলেও, পরিসংখ্যানের ঐতিহাসিক খাতায় এখনো সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখার রেকর্ডটি ব্রাজিলের দখলেই রয়ে গেছে।