সংগৃহীত ছবি
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ থেকেই নিজের চেনা ছন্দে আলো ছড়াচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়াস জুনিয়র। মরক্কোর পর হাইতির বিপক্ষে গোলের দেখা পাওয়া রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা উইঙ্গার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও ছিলেন চরম উজ্জ্বল। তাঁর নান্দনিক জোড়া গোলের ওপর ভর করে স্কটল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে সেলেসাওরা। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটিশদের ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট বা শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত ব্রাজিলের এই দাপুটে জয়ের ম্যাচের গায়েও লেপ্টে গেছে তীব্র এক রেফারিং বিতর্ক। আর সেই মহাবিতর্কের মূল উৎস ছিল প্রথমার্ধে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের বাতিল হয়ে যাওয়া একটি দুর্দান্ত গোল। ওই গোলটি যদি বাতিল না হতো, তবে প্রথমার্ধেই স্বপ্নের হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়ে যেতেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ম্যাচটিতে সেলেসাওরা বড় ব্যবধানে মাঠ ছাড়লেও ফুটবল বিশ্বে ভিনির সেই বাতিল হওয়া গোলটি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা থামছেই না। খুবই আলতো ও স্বাভাবিক একটি স্পর্শকে ফাউল ধরে গোলটি বাতিল করায় তীব্র বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক অফিশিয়াল এবং বিবিসির বর্তমান প্রধান ফুটবল এক্সপার্ট পর্যবেক্ষক ড্যারেন কান।
ম্যাচের বিবরণী থেকে জানা যায়, মিয়ামি গার্ডেন্সে আজ খেলা শুরুর মাত্র ৭ মিনিটেই ভিনিসিয়াসের জাদুকরী গোলে লিড পায় ব্রাজিল। এরপর ম্যাচের ২২ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই ঘটে সেই বিতর্কিত ঘটনা। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রির কাছ থেকে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বল কেড়ে নিয়ে স্কটিশদের জালে জড়ান ভিনিসিয়াস এবং হ্যাটট্রিকের আনন্দে মেতে ওঠেন। কিন্তু মাঠের মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোসকে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) রিভিউ দেখার সংকেত দেওয়া হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, ভিনিসিয়াসের পায়ের সাথে স্কটিশ ডিফেন্ডারের সামান্য শারীরিক স্পর্শ হয়েছিল। তবে ভিডিওর আরেকটি পরিষ্কার অ্যাঙ্গেল থেকে দেখা যাচ্ছিল, ভিনিসিয়াসের পা সম্পূর্ণ বলের দিকেই ছিল; বরং ডিফেন্ডার হেনড্রি নিজেই বল আটকাতে গিয়ে ভিনির পায়ে এসে আঘাত লাগান। কিন্তু রেফারি সিজার রামোস গভীর বিশ্লেষণ না করে কেবল একটি মাত্র নেতিবাচক অ্যাঙ্গেল দেখেই দ্রুত গোল বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেন।
রেফারির এই হঠকারী সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি তাদের সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি ড্যারেন কানের মতামত জানতে চায়। এই ঘটনায় রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করে ড্যারেন কান বলেন, “সত্যি বলতে, আমার মনে হয় স্কটল্যান্ড এখানে ভীষণ ভাগ্যবান যে তারা গোলটি হজম করা থেকে বেঁচে গেছে। বল স্পর্শ করার আগে সেখানে সামান্য বডি কন্টাক্ট হয়েছিল। তবে আমি কোনোভাবেই মনে করি না যে এটি ভিনিসিয়াসের ফাউল ছিল। ভিনি কেবল নিজের পজিশন ধরে রেখেছিল, উল্টো ডিফেন্ডার নিজেই এসে তাঁর গায়ে লাথি মারে। স্কটল্যান্ড রেফারিং সিদ্ধান্তের এই বড় সুবিধাটি পেয়ে গেছে।” ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের এই জয়ে হয়তো বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে বিশ্বমঞ্চে এমন দুর্বল রেফারিং এবং ভিএআর-এর অপব্যবহার টুর্নামেন্টের সৌন্দর্য নষ্ট করছে।

স্পোর্টস ডেস্ক 















