ছবি : সংগৃহীত
টালিগঞ্জের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে ওড়িশার তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর। প্রিয় অভিনেতার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মী ও অগণিত ভক্তরা।
জানা গেছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামক একটি ধারাবাহিকের শুটিং করতে দিঘা সংলগ্ন তালসারিতে গিয়েছিলেন রাহুল। বিকেলের দিকে শুটিংয়ের বিরতিতে তিনি সমুদ্রের পানিতে নামেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পানিতে নামার কিছুক্ষণ পরই বিশাল একটি ঢেউ আছড়ে পড়ে তাঁর ওপর। মুহূর্তের মধ্যেই উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে যান তিনি। বেশ কিছুক্ষণ পানির নিচে নিখোঁজ থাকার পর ইউনিটের টেকনিশিয়ানরা তাঁকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। অচেতন অবস্থায় সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ তাঁকে স্থানীয় দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ এই মৃত্যুকে একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “রাহুল অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং বুদ্ধিমান অভিনেতা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছিলেন। এই ধরণের দুর্ঘটনা ভাবাই যায় না।” তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন টালিগঞ্জের প্রথম সারির সব তারকারা।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম নেওয়া রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিনয় যাত্রা শুরু হয়েছিল বাবার হাত ধরে ‘রাজ দর্শন’ নাটকের মাধ্যমে। নাট্যমঞ্চে ৪৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি পা রেখেছিলেন সেলুলয়েডের পর্দায়। ২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর রাজকীয় অভিষেক হয়, যা রাতারাতি তাঁকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে যায়। ওই ছবির সহ–অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে তাঁর প্রেম ও পরবর্তীতে বিয়ে হয়। তাঁদের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই–উতরাই থাকলেও অভিনয় গুণে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছিলেন। তাঁর এই প্রস্থান বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করল।

বিনোদন ডেস্ক 














