সংগৃহীত ছবি
ব্যক্তিগত জীবন ও নিজের যাপন নিয়ে বরাবরই খোলামেলা কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি বিশেষ অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের প্রেম, বিয়ে, ব্যর্থতা এবং জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে আবারও অকপটে কথা বলেছেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ খ্যাত এই তারকা।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বাঁধনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নতুন করে প্রেম বা বিয়ে নিয়ে তাঁর বর্তমান ভাবনা বা কোনো পরিকল্পনা আছে কি না। জবাবে এই অভিনেত্রী হাসিমুখে জানান, গত বছর তিনি নতুন করে ছাদনাতলায় বসার কথা বেশ গুরুত্ব দিয়েই ভেবেছিলেন। এমনকি বিয়ে করার মতো একজন উপযুক্ত মানুষও তাঁর জীবনে এসেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কটি আর ছাদনাতলা পর্যন্ত গড়ায়নি।
নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বাঁধন বলেন, “সত্যি বলছি, গত বছর আমার বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরিকল্পনা থাকলেও তো আমার পছন্দমতো মানুষ পেতে হবে। বিয়ে করার মতো একজনকে পেয়েও ছিলাম। যার মা-ও আমাকে খুব পছন্দ করেছিলেন। কিন্তু সে আসলে ভেগে গেছে।” বর্তমানে বিয়ের জন্য পারফেক্ট কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “এখন আমি বিয়ে করার মতো পাত্র আমার আশপাশে পাই নাই। তবে প্রেম করার জন্য দুই-একজনকে পেয়েছিলাম। তার মধ্যে একজনের সঙ্গে প্রেমও করেছি। তবে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে পাত্র বা মানুষটি আসলে কেমন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
নিজের অতীত জীবনের বৈবাহিক অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই অভিনেত্রী বেশ পরিপক্বতার সঙ্গে বলেন, “বিয়ে তো আমি দুইবার করে ফেলেছি। এখন আর নিশ্চয়ই নতুন করে সেই একই ভুলটা করা যাবে না।” তাই এবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে দেখেশুনে পা বাড়াচ্ছেন, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
আলাপচারিতায় কেবল ব্যক্তিগত জীবনই নয়, ঈদকে ঘিরে নিজের শৈশবের সোনালী স্মৃতিও রোমন্থন করেন বাঁধন। তিনি জানান, ছোটবেলায় কোরবানির ঈদ মানেই ছিল পরিবারের সব সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আনন্দমুখর সময় কাটানো। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে তাঁদের পৈতৃক গ্রামের বাড়িতে উদযাপিত ঈদের সেই উৎসবমুখর দিনগুলোর স্মৃতি আজও তাঁর মনে জ্বলজ্বল করে।
তবে সময়ের নিয়মে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ঈদের অনুভূতিও যে বদলে গেছে, তা মনে করেন এই তারকা। বাঁধনের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দের চেয়ে এখন পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধই বেশি অনুভূত হয়। আর শৈশবে রোজার ঈদের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল দলবেঁধে সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা, যা এখনও তাঁর স্মৃতির মণিকোঠায় বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে বলে জানান এই গুণী অভিনেত্রী।

বিনোদন ডেস্ক 














