ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ধর্ষণ ঠেকাতে ব্যর্থ রাষ্ট্র সিনেমা বন্ধ করে: রুমিন

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বাতিলের প্রতিবাদে সরাইলে তীব্র ক্ষোভ

সংগৃহীত ছবি

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বহুল আলোচিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বাধার মুখে বন্ধের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, যে রাষ্ট্র নিত্যদিন শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকার ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেই রাষ্ট্র কীভাবে একটি সুস্থ ধারার সিনেমা প্রদর্শন বন্ধে মদদ দেয়—এটাই এখন জনগণের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আজ সোমবার (১ জুন) বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

 

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে দেখার উপযোগী একটি সুন্দর সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ কেন হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো, এই প্রশ্ন এখন পুরো জেলার সচেতন মানুষের। আমি যদি পরিষ্কার ভাষায় প্রশ্ন করি—যেই রাষ্ট্র ৬ বছরের নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ আর বলাৎকার থেকে রক্ষা করতে পারে না, যেই রাষ্ট্রে লাগামহীন দুর্নীতি, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার আর ব্যাংকলুট বন্ধ করা যায় না, সেই রাষ্ট্র বা প্রশাসন কেন উগ্রবাদীদের প্রেসক্রিপশনে সিনেমা বন্ধে মদদ দেয়?”

 

 

দেশে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “আমরা গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশে দেখেছি, একটার পর একটা ঐতিহাসিক মাজার ভাঙা হয়েছে, কবর থেকে তুলে নিয়ে মানুষের লাশ পর্যন্ত পোড়ানো হয়েছে। আমরা খুব সুক্ষ্মভাবে দেশে দক্ষিণপন্থা বা ডানপন্থী উগ্রবাদের আশঙ্কাজনক উত্থান দেখেছি। কিন্তু আমার দেশের অসাম্প্রদায়িক মাটি তো কখনো এমন উগ্র ছিল না। এই দেশে আমরা সকাল বেলা যেমন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত শুনেছি, তেমনি বিকেল বেলা হারমোনিয়াম নিয়ে ছোট-ছোট বাচ্চাদের গান প্র্যাকটিস করতেও দেখেছি। তাহলে আজ এই শান্ত ও প্রগতিশীল বাংলাদেশকে কারা জোর করে মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়?”

 

 

এ সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারা দেশে সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলতে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। এই ঐতিহ্যবাহী গৌরবময় পরিচয়টা কখনো কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে মুছে ফেলতে দেবেন না।” রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একশ্রেণীর গোষ্ঠীকে যে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”

 

 

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি মিলনায়তনে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের হুংকার ও বাধার মুখে স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজক সংস্থা ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি’। একই দিন রাতে জেলার কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় পর্যায়ের আরেকটি উন্মুক্ত প্রদর্শনী পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে বন্ধ করা হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এই জোড়া ঘটনার পর থেকেই দেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ধর্ষণ ঠেকাতে ব্যর্থ রাষ্ট্র সিনেমা বন্ধ করে: রুমিন

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী বাতিলের প্রতিবাদে সরাইলে তীব্র ক্ষোভ

Update Time : ১১:০৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বহুল আলোচিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বাধার মুখে বন্ধের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, যে রাষ্ট্র নিত্যদিন শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকার ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেই রাষ্ট্র কীভাবে একটি সুস্থ ধারার সিনেমা প্রদর্শন বন্ধে মদদ দেয়—এটাই এখন জনগণের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আজ সোমবার (১ জুন) বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

 

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে দেখার উপযোগী একটি সুন্দর সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ কেন হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো, এই প্রশ্ন এখন পুরো জেলার সচেতন মানুষের। আমি যদি পরিষ্কার ভাষায় প্রশ্ন করি—যেই রাষ্ট্র ৬ বছরের নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ আর বলাৎকার থেকে রক্ষা করতে পারে না, যেই রাষ্ট্রে লাগামহীন দুর্নীতি, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার আর ব্যাংকলুট বন্ধ করা যায় না, সেই রাষ্ট্র বা প্রশাসন কেন উগ্রবাদীদের প্রেসক্রিপশনে সিনেমা বন্ধে মদদ দেয়?”

 

 

দেশে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “আমরা গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশে দেখেছি, একটার পর একটা ঐতিহাসিক মাজার ভাঙা হয়েছে, কবর থেকে তুলে নিয়ে মানুষের লাশ পর্যন্ত পোড়ানো হয়েছে। আমরা খুব সুক্ষ্মভাবে দেশে দক্ষিণপন্থা বা ডানপন্থী উগ্রবাদের আশঙ্কাজনক উত্থান দেখেছি। কিন্তু আমার দেশের অসাম্প্রদায়িক মাটি তো কখনো এমন উগ্র ছিল না। এই দেশে আমরা সকাল বেলা যেমন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত শুনেছি, তেমনি বিকেল বেলা হারমোনিয়াম নিয়ে ছোট-ছোট বাচ্চাদের গান প্র্যাকটিস করতেও দেখেছি। তাহলে আজ এই শান্ত ও প্রগতিশীল বাংলাদেশকে কারা জোর করে মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়?”

 

 

এ সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারা দেশে সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলতে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “সংস্কৃতির রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। এই ঐতিহ্যবাহী গৌরবময় পরিচয়টা কখনো কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে মুছে ফেলতে দেবেন না।” রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একশ্রেণীর গোষ্ঠীকে যে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”

 

 

উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের একটি মিলনায়তনে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের হুংকার ও বাধার মুখে স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজক সংস্থা ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি’। একই দিন রাতে জেলার কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় পর্যায়ের আরেকটি উন্মুক্ত প্রদর্শনী পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে বন্ধ করা হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এই জোড়া ঘটনার পর থেকেই দেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে।