বিশ্বখ্যাত নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর সেই রহস্যময়ী মেয়ে ‘ইলেভেন’ আজ আর কেবল একজন কিশোরী অভিনেত্রী নন; তিনি একাধারে সফল প্রযোজক, বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের মালিক এবং কোটি তরুণের অনুপ্রেরণা। গতকাল ১৯ ফেব্রুয়ারি ছিল ব্রিটিশ এই অভিনেত্রী ও প্রযোজকের জন্মদিন। মাত্র ২২ বছর বয়সেই মিলি ববি ব্রাউন হলিউডের প্রভাবশালী তারকাদের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। স্পেনের মারবেলায় জন্ম নেওয়া এই তারকাকে হলিউডে জায়গা করে নিতে পাড়ি দিতে হয়েছে বন্ধুর পথ। একসময় অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া এবং পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েনে অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হলেও ২০১৬ সালে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ তাঁর ভাগ্য বদলে দেয়। এমি মনোনয়নসহ অসংখ্য স্বীকৃতি তাঁকে বিশ্বজুড়ে রাতারাতি খ্যাতি এনে দেয়।
টিভির পর্দা ছাড়িয়ে মিলি ববি ব্রাউন বড়পর্দাতেও নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। ‘গডজিলা: কিং অব দ্য মনস্টার্স’ এবং ‘এনোলা হোমস’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে ‘এনোলা হোমস’ সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে সাফল্যের মুদ্রার উল্টো পিঠও তাঁকে দেখতে হয়েছে। অল্প বয়সে খ্যাতির ভার বইতে গিয়ে ইন্টারনেটে ভয়াবহ বুলিং ও ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছেন তিনি। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেও পরবর্তীতে তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে এবং সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হন।
অভিনয়ের পাশাপাশি মিলি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর নিজস্ব বিউটি ব্র্যান্ড ‘ফ্লোরেন্স বাই মিলি’ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ব্যবসায়িক প্রজ্ঞা, চলচ্চিত্রের পারিশ্রমিক এবং ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট মিলিয়ে মাত্র ২২ বছরেই তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ মিলিয়ন ডলার বা ২৪৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বেশ স্থিতধী। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জন বন জোভির ছেলে জেক বোনজভির সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন তিনি।
মিলির এই অগ্রযাত্রা হলিউডের তথাকথিত ‘চাইল্ড স্টার’ বা শিশু তারকাদের হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে চরিত্র বাছাই, নিজের প্রোডাকশন হাউস পরিচালনা এবং ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেবল অভিনয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের শর্তে বেড়ে ওঠার সাহসী অঙ্গীকার মিলি ববি ব্রাউনকে সমসাময়িক অন্য তারকাদের চেয়ে আলাদা মর্যাদায় আসীন করেছে। সামনে তাঁর বেশ কিছু বড় চলচ্চিত্র প্রকল্প ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা রয়েছে যা তাঁকে দীর্ঘমেয়াদে হলিউডের নেতৃত্বে রাখতে সাহায্য করবে।

বিনোদন ডেস্ক 














