ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা—দুই মন্ত্রণালয়েরই কাণ্ডারি মিলন; সচিবালয়ে প্রথম দিনেই সংস্কারের ইঙ্গিত।

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে ঘিরে কেন এত আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মিলন এবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের (শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা) দায়িত্ব পেয়েছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের পর বুধবার তিনি সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হন।

 

 

পুরানো মিলনের নতুন মিশন

২০০১-২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে আ ন ম এহসানুল হক মিলনের ‘হার্ডলাইন’ অবস্থান দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছিল।

  • নকল বিরোধী অভিযান: সে সময় তিনি নকল রোধে সশরীরে কেন্দ্র পরিদর্শন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করে পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনেন।
  • ফলাফলের প্রভাব: তাঁর কঠোর নজরদারির কারণে পাশের হার কমে গেলেও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
  • বিতর্ক সমালোচনা: তখন হেলিকপ্টারে চড়ে নকল ধরতে যাওয়ার মতো কিছু উদ্যোগ নিয়ে সে সময় সমালোচনার মুখোমুখিও হতে হয়েছিল তাঁকে।

 

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

 

মন্ত্রিসভা গঠনের আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের বড় একটি অংশ মিলনকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে তাঁর মতো একজন কঠোর প্রশাসককে ফেরানোর দাবি উঠেছিল। অবশেষে সেই জনআকাঙ্ক্ষাকেই প্রধান্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মি. মিলন জানিয়েছেন, তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার হবে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রশ্ন ফাঁসের চিরস্থায়ী অবসান ঘটানো। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি সমন্বিত সংস্কারের রোডম্যাপ তিনি দ্রুতই পেশ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন মোজতবা খামেনি

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা—দুই মন্ত্রণালয়েরই কাণ্ডারি মিলন; সচিবালয়ে প্রথম দিনেই সংস্কারের ইঙ্গিত।

শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে ঘিরে কেন এত আলোচনা

Update Time : ০৪:১৯:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মিলন এবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের (শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা) দায়িত্ব পেয়েছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের পর বুধবার তিনি সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মিলিত হন।

 

 

পুরানো মিলনের নতুন মিশন

২০০১-২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে আ ন ম এহসানুল হক মিলনের ‘হার্ডলাইন’ অবস্থান দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছিল।

  • নকল বিরোধী অভিযান: সে সময় তিনি নকল রোধে সশরীরে কেন্দ্র পরিদর্শন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার করে পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনেন।
  • ফলাফলের প্রভাব: তাঁর কঠোর নজরদারির কারণে পাশের হার কমে গেলেও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
  • বিতর্ক সমালোচনা: তখন হেলিকপ্টারে চড়ে নকল ধরতে যাওয়ার মতো কিছু উদ্যোগ নিয়ে সে সময় সমালোচনার মুখোমুখিও হতে হয়েছিল তাঁকে।

 

সোশ্যাল মিডিয়ার প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

 

মন্ত্রিসভা গঠনের আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের বড় একটি অংশ মিলনকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। বিশেষ করে বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে তাঁর মতো একজন কঠোর প্রশাসককে ফেরানোর দাবি উঠেছিল। অবশেষে সেই জনআকাঙ্ক্ষাকেই প্রধান্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মি. মিলন জানিয়েছেন, তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার হবে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রশ্ন ফাঁসের চিরস্থায়ী অবসান ঘটানো। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি সমন্বিত সংস্কারের রোডম্যাপ তিনি দ্রুতই পেশ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।