ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রমজানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সোচ্চার রশিদ-নবী

কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় নিহত ৪০০, ক্ষুব্ধ আফগান ক্রিকেটাররা

ছবি : সংগৃহীত

 

পবিত্র রমজান মাসের শেষলগ্নে কাবুলে পাকিস্তানের এক ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০০ জন বেসামরিক মানুষ। সোমবার গভীর রাতে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে এই পৈশাচিক হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ। ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে, বিশেষ করে আফগানিস্তানের জাতীয় ক্রিকেটাররা এই হামলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

 

আফগানিস্তানের উপসরকারি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে যখন সাধারণ মানুষ ইবাদত ও বিশ্রামে মগ্ন ছিল, ঠিক তখনই পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র, যেখানে কলঙ্কিত জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় অনেক তরুণ চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে পাকিস্তান সরকার এই সুনির্দিষ্ট হাসপাতালের ওপর হামলার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, তাঁরা কাবুলে তালিবান সরকারের মদদপুষ্টসন্ত্রাসী আস্তানাও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছেন।

 

এই রক্তক্ষয়ী হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দেন আফগান ক্রিকেটের পোস্টার বয় রশিদ খান। এক্স (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, “চিকিৎসা অবকাঠামো বা বেসামরিক বাড়িঘরে হামলা চালানো- সেটা ভুলবশত হোক বা ইচ্ছাকৃত- একটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। পবিত্র রমজান মাসে মানুষের জীবনের প্রতি এই চরম অবজ্ঞা অত্যন্ত ঘৃণ্য।রশিদ খান জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

 

সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী নিহতদের স্মরণে আবেগঘন এক পোস্টে বলেন, “সুস্থ জীবনে ফেরার আশায় আসা তরুণদের আশার আলো আজ রাতে নিভে গেল। মায়েরা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এখনো তাঁদের সন্তানদের নাম ধরে ডাকছেন।টিটোয়েন্টি অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন। অন্যদিকে, পেসার নাভিন উল হক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকিস্তান ও ইসরায়েলি শাসনের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন।

 

এদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নানগারহার ও কাবুলের বিশেষ কিছু স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে যেগুলো সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করত। কিন্তু হাসপাতালের ওপর এমন ভয়াবহ হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানের দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। রমজানের ২৮তম দিনে এই নৃশংসতা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে এক বিপজ্জনক স্তরে নিয়ে গেল। এই মুহূর্তে কাবুলের আকাশ শোকাতুর, আর ধসে পড়া হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চলছে স্বজনদের হাহাকার।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

রমজানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সোচ্চার রশিদ-নবী

কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় নিহত ৪০০, ক্ষুব্ধ আফগান ক্রিকেটাররা

Update Time : ১১:২৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

পবিত্র রমজান মাসের শেষলগ্নে কাবুলে পাকিস্তানের এক ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০০ জন বেসামরিক মানুষ। সোমবার গভীর রাতে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে এই পৈশাচিক হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ। ২ হাজার শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালের একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে, বিশেষ করে আফগানিস্তানের জাতীয় ক্রিকেটাররা এই হামলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

 

আফগানিস্তানের উপসরকারি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে যখন সাধারণ মানুষ ইবাদত ও বিশ্রামে মগ্ন ছিল, ঠিক তখনই পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র, যেখানে কলঙ্কিত জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় অনেক তরুণ চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে পাকিস্তান সরকার এই সুনির্দিষ্ট হাসপাতালের ওপর হামলার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, তাঁরা কাবুলে তালিবান সরকারের মদদপুষ্টসন্ত্রাসী আস্তানাও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছেন।

 

এই রক্তক্ষয়ী হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দেন আফগান ক্রিকেটের পোস্টার বয় রশিদ খান। এক্স (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, “চিকিৎসা অবকাঠামো বা বেসামরিক বাড়িঘরে হামলা চালানো- সেটা ভুলবশত হোক বা ইচ্ছাকৃত- একটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। পবিত্র রমজান মাসে মানুষের জীবনের প্রতি এই চরম অবজ্ঞা অত্যন্ত ঘৃণ্য।রশিদ খান জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

 

সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী নিহতদের স্মরণে আবেগঘন এক পোস্টে বলেন, “সুস্থ জীবনে ফেরার আশায় আসা তরুণদের আশার আলো আজ রাতে নিভে গেল। মায়েরা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এখনো তাঁদের সন্তানদের নাম ধরে ডাকছেন।টিটোয়েন্টি অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরানও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন। অন্যদিকে, পেসার নাভিন উল হক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকিস্তান ও ইসরায়েলি শাসনের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন।

 

এদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নানগারহার ও কাবুলের বিশেষ কিছু স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে যেগুলো সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করত। কিন্তু হাসপাতালের ওপর এমন ভয়াবহ হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানের দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। রমজানের ২৮তম দিনে এই নৃশংসতা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে এক বিপজ্জনক স্তরে নিয়ে গেল। এই মুহূর্তে কাবুলের আকাশ শোকাতুর, আর ধসে পড়া হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো চলছে স্বজনদের হাহাকার।