ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
যুক্তরাষ্ট্রের চরম অবস্থানে ভেস্তে গেল শান্তি প্রচেষ্টা; আক্ষেপ আরাগচির

চুক্তির দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসলাম, যুক্তরাষ্ট্রের অনমনীয়তাকে দুষলেন আরাগচি

ছবি : সংগৃহীত

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর আয়োজিত প্রথম সরাসরি ও নিবিড় শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপটি এক পর্যায়েইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ)’ স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও শেষ মুহূর্তে ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়। গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

 

আরাগচি তাঁর পোস্টে গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ইরান অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়ে এই সংলাপে যোগ দিয়েছিল। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটানো। কিন্তু যখন আমরা চুক্তির মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রতিনিধিরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং নতুন নতুন ইস্যু সামনে নিয়ে আসেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আলোচনার মাঝপথে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবরোধের হুমকি এবং চরমপন্থা প্রদর্শনের ফলে শান্তি প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, “সদিচ্ছা থেকেই সদিচ্ছার জন্ম হয়, কিন্তু শত্রুতা কেবল শত্রুতাকেই ডেকে আনে।

 

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলেছিল। কিন্তু কোনো ফলাফল ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানেঅপারেশন এপিক ফিউরিশুরু করে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলও শুরু করেঅপারেশন রোয়ারিং লায়ন যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন হামলায় ইরানের টানা ৩৭ বছরের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি এই হামলায় গুরুতর আহত হন।

 

রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর উত্তেজনা প্রশমনে গত ৭ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে পুনরায় সংলাপে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক শেষে কোনো সমঝোতা না আসায় মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমওইউ স্বাক্ষরের চূড়ান্ত মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইস্যু পরিবর্তন করা তেহরানের কাছে একটিকূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতাহিসেবে গণ্য হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে আলোচনার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ল।

 

সূত্র : এএফপি/ ডন

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

যুক্তরাষ্ট্রের চরম অবস্থানে ভেস্তে গেল শান্তি প্রচেষ্টা; আক্ষেপ আরাগচির

চুক্তির দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসলাম, যুক্তরাষ্ট্রের অনমনীয়তাকে দুষলেন আরাগচি

Update Time : ১০:১৮:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর আয়োজিত প্রথম সরাসরি ও নিবিড় শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপটি এক পর্যায়েইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ)’ স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও শেষ মুহূর্তে ওয়াশিংটনের অনমনীয় অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়। গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

 

আরাগচি তাঁর পোস্টে গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ইরান অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়ে এই সংলাপে যোগ দিয়েছিল। আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটানো। কিন্তু যখন আমরা চুক্তির মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে, ঠিক তখনই মার্কিন প্রতিনিধিরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং নতুন নতুন ইস্যু সামনে নিয়ে আসেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আলোচনার মাঝপথে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবরোধের হুমকি এবং চরমপন্থা প্রদর্শনের ফলে শান্তি প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, “সদিচ্ছা থেকেই সদিচ্ছার জন্ম হয়, কিন্তু শত্রুতা কেবল শত্রুতাকেই ডেকে আনে।

 

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলেছিল। কিন্তু কোনো ফলাফল ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানেঅপারেশন এপিক ফিউরিশুরু করে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলও শুরু করেঅপারেশন রোয়ারিং লায়ন যুদ্ধের প্রথম দিনেই মার্কিন হামলায় ইরানের টানা ৩৭ বছরের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি এই হামলায় গুরুতর আহত হন।

 

রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর উত্তেজনা প্রশমনে গত ৭ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে পুনরায় সংলাপে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক শেষে কোনো সমঝোতা না আসায় মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমওইউ স্বাক্ষরের চূড়ান্ত মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইস্যু পরিবর্তন করা তেহরানের কাছে একটিকূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতাহিসেবে গণ্য হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে আলোচনার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ল।

 

সূত্র : এএফপি/ ডন