ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

ঢাকা বারে ভোটের খরা, ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট

ছবি : সংগৃহীত

 

দেশের বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন কালবেলাকে ভোটের সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, দুই দিনে মোট সাত হাজার ৬৯ জন আইনজীবী নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

 

অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন জানান, প্রথম দিনে দুই হাজার ৭৫৯ জন এবং দ্বিতীয় দিনে চার হাজার ৩১০ জন আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট প্রদান করলেও ৬৬ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। তবে দুই দিন ধরেই বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির মাঝেও আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের সুবিধার্থে বুথের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।

 

ফলাফলের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর ভোট গণনা শুরু হবে। ভোটার স্লিপগুলো যথাযথভাবে ক্রমানুসারে সাজিয়ে গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার গভীর রাত অথবা শনিবার সকালেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সমিতির ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদে ভোট গ্রহণ করা হয়। এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেল) নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই প্যানেলের ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ছাড়াও স্বতন্ত্র আটজন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

 

তবে এবারের নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল। বিগত ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তাদের সমর্থিত আইনজীবীরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন, যার ফলে সমিতির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে ১৩ আগস্ট বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের নিয়ে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা এতদিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

ঢাকা বারে ভোটের খরা, ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট

Update Time : ১০:৩৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

দেশের বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোটগ্রহণ শেষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন কালবেলাকে ভোটের সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, দুই দিনে মোট সাত হাজার ৬৯ জন আইনজীবী নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

 

অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন জানান, প্রথম দিনে দুই হাজার ৭৫৯ জন এবং দ্বিতীয় দিনে চার হাজার ৩১০ জন আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে ৩৪ শতাংশ আইনজীবী ভোট প্রদান করলেও ৬৬ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। তবে দুই দিন ধরেই বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির মাঝেও আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের সুবিধার্থে বুথের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।

 

ফলাফলের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর ভোট গণনা শুরু হবে। ভোটার স্লিপগুলো যথাযথভাবে ক্রমানুসারে সাজিয়ে গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার গভীর রাত অথবা শনিবার সকালেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সমিতির ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদে ভোট গ্রহণ করা হয়। এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেল) নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই প্যানেলের ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ছাড়াও স্বতন্ত্র আটজন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

 

তবে এবারের নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল। বিগত ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তাদের সমর্থিত আইনজীবীরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন, যার ফলে সমিতির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে ১৩ আগস্ট বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের নিয়ে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা এতদিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিল।