সংগৃহীত ছবি
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নূরনবী সরকারের দীর্ঘ ১০ বছরের প্রবাস জীবনের সমাপ্তি ঘটার কথা ছিল আগামী কোরবানির ঈদে। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে প্রিয়জনদের কাছে জীবন্ত নূরনবী ফিরছেন না, ফিরছে তার নিথর দেহ।
শুক্রবার ভোরে মালদ্বীপের দিঘুরা দ্বীপে একটি নির্মাণাধীন সাইটের গেস্ট হাউসে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত হন ৫ বাংলাদেশি শ্রমিক, যাদের একজন শিবগঞ্জের বাদেগাংনই গ্রামের ২৭ বছর বয়সী যুবক নূরনবী।
শনিবার সকালে নূরনবীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিকে হারিয়ে দিশেহারা তার মা-বাবা। প্রতিবেশীরা ভিড় করে শোকাতুর পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু বৃদ্ধ বাবা আব্দুস সামাদের বিলাপ যেন থামছেই না। তার একটাই আকুতি—সরকার যেন দ্রুত তার ছেলের লাশটি দেশে আনার ব্যবস্থা করে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার দিন মালদ্বীপে সেহরির রান্না করতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নূরনবীসহ তাজ উদ্দিন ইসলাম, সদর আলী, রবিন মোল্লা এবং সফিকুল ইসলাম প্রাণ হারান। আহত জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নূরনবীর ভাগ্নে মাহবুব জানান, গত ১০ বছরে তার মামা একবারও দেশে আসেননি। এবার সব পাকা কথা হয়েছিল যে প্রবাস জীবনের ইতি টেনে তিনি ফিরবেন। কিন্তু এখন লাশ কবে আসবে বা শেষ দেখা আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে স্বজনদের।
মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও মৃতদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, “হাইকমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে আমরা দ্রুততম সময়ে মৃতদেহ দেশে আনার প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
















