চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলাকালেই ফলাফল শিটে (রেজাল্ট শিট) পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল আলমকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটার দিকে উত্তর সাতকানিয়ার আলী আহমদ প্রাণহরি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণ শেষে গণনা সম্পন্ন করার পর ফলাফল প্রকাশের সময় পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার নিয়ম। কিন্তু অভিযুক্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলম নিয়ম লঙ্ঘন করে ভোট চলাকালেই ধানের শীষ, লাঙ্গল ও ছাতা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফরিদুল আলম নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি অসুস্থ মানুষ। ভুলবশত আমি আগেই স্বাক্ষর নিয়ে ফেলেছি। এটি কোনোভাবেই ইচ্ছাকৃত কাজ ছিল না।” ফরিদুল আলমের দেওয়া তথ্যমতে, ওই কেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ভোটার রয়েছেন এবং দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছিল।
বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নতুন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সচল রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম 















