ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নেপথ্যে স্ত্রী শীলা আহমেদ; নিয়োগ-বাণিজ্য ও দায়মুক্তিতে বিশাল কেলেঙ্কারি।

ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও ‘ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন প্রথিতযশা আইনবিদ ড. আসিফ নজরুল। তবে দায়িত্ব পালনের ১৮ মাস পার হওয়ার পর সদ্য বিদায়ী এই উপদেষ্টার কর্মকাণ্ড ঘিরে বেরিয়ে আসছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত সব তথ্য।

 

অভিযোগ উঠেছে, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ও তাঁর পরিবার নিয়োগ-বাণিজ্য এবং বড় বড় মামলার আসামিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিপুল অর্থ লেনদেন ও পাচারের নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন তাঁর স্ত্রী ও প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কন্যা শীলা আহমেদ।

 

 

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ড. আসিফ নজরুল দাপ্তরিক কাজ ও নীতিনির্ধারণী ফাইলে স্বাক্ষর করলেও পর্দার আড়ালে পুরো আর্থিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন শীলা আহমেদ। মন্ত্রণালয়ের বদলি, পিপি নিয়োগ কিংবা প্রভাবশালীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে আর্থিক সমঝোতার চাবিকাঠি ছিল তাঁর হাতে। এমনকি দুবাই ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশের গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা নিশ্চিত হওয়ার পরেই কেবল সংশ্লিষ্ট ফাইলে উপদেষ্টার সই পড়ত বলে অভিযোগ উঠেছে। এক সিন্ডিকেট সদস্যের দাবি অনুযায়ী, ‘ম্যাডামের’ সবুজ সংকেত ছাড়া উপদেষ্টা কোনো বড় সিদ্ধান্তে যেতেন না।

 

 

বিশেষ করে বিদায়ের আগমুহূর্তে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালকে আইনি সুরক্ষা ও মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির বিষয়টি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই একটি ডিল থেকেই প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অর্জিত হয়েছে, যা দুবাইয়ের ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয়। এছাড়াও গত দেড় বছরে এই দম্পতি প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা সুইজারল্যান্ড, লন্ডন ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লবের পর এমন পারিবারিক লুটপাটের খবর বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

নেপথ্যে স্ত্রী শীলা আহমেদ; নিয়োগ-বাণিজ্য ও দায়মুক্তিতে বিশাল কেলেঙ্কারি।

ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

Update Time : ০৪:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও ‘ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন প্রথিতযশা আইনবিদ ড. আসিফ নজরুল। তবে দায়িত্ব পালনের ১৮ মাস পার হওয়ার পর সদ্য বিদায়ী এই উপদেষ্টার কর্মকাণ্ড ঘিরে বেরিয়ে আসছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত সব তথ্য।

 

অভিযোগ উঠেছে, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ও তাঁর পরিবার নিয়োগ-বাণিজ্য এবং বড় বড় মামলার আসামিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিপুল অর্থ লেনদেন ও পাচারের নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন তাঁর স্ত্রী ও প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কন্যা শীলা আহমেদ।

 

 

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ড. আসিফ নজরুল দাপ্তরিক কাজ ও নীতিনির্ধারণী ফাইলে স্বাক্ষর করলেও পর্দার আড়ালে পুরো আর্থিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন শীলা আহমেদ। মন্ত্রণালয়ের বদলি, পিপি নিয়োগ কিংবা প্রভাবশালীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিটি ক্ষেত্রে আর্থিক সমঝোতার চাবিকাঠি ছিল তাঁর হাতে। এমনকি দুবাই ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশের গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা নিশ্চিত হওয়ার পরেই কেবল সংশ্লিষ্ট ফাইলে উপদেষ্টার সই পড়ত বলে অভিযোগ উঠেছে। এক সিন্ডিকেট সদস্যের দাবি অনুযায়ী, ‘ম্যাডামের’ সবুজ সংকেত ছাড়া উপদেষ্টা কোনো বড় সিদ্ধান্তে যেতেন না।

 

 

বিশেষ করে বিদায়ের আগমুহূর্তে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালকে আইনি সুরক্ষা ও মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির বিষয়টি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই একটি ডিল থেকেই প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অর্জিত হয়েছে, যা দুবাইয়ের ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয়। এছাড়াও গত দেড় বছরে এই দম্পতি প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা সুইজারল্যান্ড, লন্ডন ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লবের পর এমন পারিবারিক লুটপাটের খবর বর্তমানে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।