ছবি : সংগৃহীত
অবশেষে ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ। গত রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) একটি বিশেষ দল বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এএনআই–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফয়সালের সঙ্গে আলমগীর হোসেন নামে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ ও আত্মগোপনের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
এসটিএফ–এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পর খুনিরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। এরপর ভারতের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকা এই দুই ব্যক্তি সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিল। বিশ্বস্ত তথ্যের ভিত্তিতে বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় ওত পেতে থাকা এসটিএফ সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। রোববারই তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই গ্রেপ্তারের ফলে দীর্ঘদিনের পলাতক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক অর্জিত হলো।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে নির্বাচনী প্রচার শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে শরিফ ওসমান হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা লক্ষ্য করে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় অতর্কিত হামলা চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীদের চালানো গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হলেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। অবশেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়, সেখানে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাদি হত্যার পর থেকেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। রাজনৈতিক কর্মী ও সমাজসেবক ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় মতিঝিলসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মূল পরিকল্পনাকারীরা গা ঢাকা দেয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ওপার বাংলায় তাদের গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তি ফিরেছে হাদির পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে। এখন দুই দেশের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই আসামিদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক মুখোমুখি করার জোর দাবি উঠেছে।
সূত্র: এএনআই।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 















