সংগৃহীত ছবি
মুক্তির আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। পর্দার পেছনের মানুষটির জীবনের জটিলতা আর বিতর্কিত অধ্যায়গুলো পরিচালক কতটা সততার সঙ্গে তুলে ধরবেন, তা নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে ছিল বিস্তর সংশয়।
তবে সব আলোচনা-সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বক্স অফিসে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দিচ্ছে এই সিনেমা। অ্যান্টন ফুকা পরিচালিত এই নির্মাণটি মুক্তির মাত্র ৫ দিনেই বিশ্বজুড়ে আয় করে নিয়েছে ২১৮.৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকারও বেশি।
চলতি বছরের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার তালিকায় এটি ইতিমধ্যে ষষ্ঠ স্থান দখল করে নিয়েছে। বক্স অফিসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত শুক্রবার মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি ৩৯.২৯ মিলিয়ন ডলার ঘরে তোলে।
দ্বিতীয় দিন শনিবার ৩২.৪৬ মিলিয়ন এবং তৃতীয় দিন রবিবারে ২৫.৪৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে প্রথম উইকএন্ডেই এর সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯৭.২০ মিলিয়ন ডলার। তবে চমক দেখিয়েছে সপ্তাহের শুরুটা। সোমবার ও মঙ্গলবার—এই দুই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারের কল্যাণে সিনেমাটির ঝুলিতে জমা হয়েছে আরও ১২১.৬৩ মিলিয়ন ডলার। ১৫৫ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এই সিনেমাটি পাঁচ দিনেই লাভজনক প্রজেক্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সিনেমার সফলতার বড় একটি কৃতিত্ব মাইকেলের ভাইপো জাফার জ্যাকসনের। মাইকেল জ্যাকসনের আইকনিক ডান্স মুভ আর কণ্ঠস্বর পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন তিনি। জাফার ছাড়াও এই তারকাবহুল সিনেমায় অভিনয় করেছেন মাইলস টেলার, কোলম্যান ডোমিঙ্গো, ক্যাট গ্রাহাম এবং লরা হ্যারিয়ারের মতো শিল্পীরা।
সমালোচকদের একাংশ দাবি করছেন, পপ তারকার জীবনের কালো অধ্যায়গুলো কিছুটা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু ভক্তদের আবেগে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। প্রেক্ষাগৃহের লম্বা লাইন প্রমাণ করছে, মৃত্যুর এত বছর পরও কিং অফ পপ-এর জনপ্রিয়তা আজও আকাশচুম্বী।
আন্তর্জাতিক বাজার, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ায় সিনেমাটি অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছে। পরিবেশকদের ধারণা, আগামী দিনগুলোতে আয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ‘মাইকেল’ সর্বকালের সেরা মিউজিক্যাল বায়োপিকগুলোর একটি হিসেবে জায়গা করে নেবে।
















