সংগৃহীত ছবি
বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো সকালের এক কাপ গরম চা। তবে স্বাস্থ্য সচেতনতার এই যুগে সাধারণ দুধ-চায়ের পরিবর্তে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভেষজ চা বা ঘরোয়া পানীয় এখন অনেক বেশি জনপ্রিয়। বিশেষ করে আমাদের রান্নাঘরের অতি সাধারণ মশলা তেজপাতা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, তেজপাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, আয়রন, পটাশিয়াম এবং ক্যালশিয়ামের মতো অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান। এই উপাদানগুলো শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে সরাসরি সহায়তা করে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ কমাতেও এটি বেশ কার্যকর।
ব্যবহারের সহজ পদ্ধতি:
তেজপাতার সর্বোচ্চ উপকারিতা পেতে বিশেষজ্ঞরা দুটি পদ্ধতির কথা বলেন। প্রথমত, রাতে এক গ্লাস পানিতে দু-তিনটি তেজপাতা ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ফুটিয়ে হালকা উষ্ণ অবস্থায় খালি পেটে পান করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত চায়ের বদলে পানিতে তেজপাতা, দারচিনি ও তুলসী পাতা ফুটিয়ে ভেষজ চা হিসেবে পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
অন্যান্য বহুমুখী গুণাগুণ:
কেবল ডায়াবেটিস নয়, তেজপাতার রয়েছে আরও নানাবিধ স্বাস্থ্যগুণ। এটি হজমশক্তি বাড়িয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য ও অ্যাসিডিটির সমস্যা দূর করতে দারুণ কার্যকর। এছাড়া জয়েন্টের ব্যথায় তেজপাতার তেল মালিশ করলে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়। এমনকি কিডনির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অনিদ্রার সমস্যা দূর করে গভীর ঘুমেও এটি সহায়তা করে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি নিয়ম করে তেজপাতার জল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক বেশি সহজ হয়।

















