ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খাদ্যাভ্যাসে আনুন সামান্য পরিবর্তন, দূর হবে অনিদ্রার চিরচেনা সমস্যা

ভালো ঘুমের জন্য সেরা চার সুপারফুড: বদলাবে জীবনযাত্রা

সংগৃহীত ছবি | এআই

 

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ আর প্রযুক্তির নেশায় আমাদের প্রাত্যহিক রুটিন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান—শান্তিময় ঘুম।

 

অনিদ্রা বা ঘুমের মান খারাপ হওয়ার পেছনে মানসিক চাপ কিংবা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম যতটা দায়ী, আমাদের খাদ্যাভ্যাসও ঠিক ততটাই প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিশেষ ‘সুপারফুড’ আমাদের শরীরের স্নায়ু ও পেশিকে শিথিল করে প্রাকৃতিকভাবে গভীর ঘুমে সাহায্য করতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের মান উন্নত করতে খাদ্যতালিকায় প্রথম সারিতে রাখা উচিত বাদাম। বাদাম ম্যাগনেসিয়ামের অন্যতম উৎস, যা শরীরের পেশিকে শিথিল করতে এবং মনকে শান্ত রাখতে ‘GABA’ নামক নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতা বাড়ায়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৫ থেকে ৭টি ভেজানো ও খোসা ছাড়ানো বাদাম খেলে ঘন ঘন রাত জাগার প্রবণতা কমে আসে। যারা রাতে পানীয় পছন্দ করেন, তাদের জন্য বাদামের দুধ একটি দারুণ বিকল্প।

 

পেশির টান বা ক্র্যাম্পের কারণে যাদের রাতে ঘুম ভেঙে যায়, তাদের জন্য কলা মহৌষধের মতো কাজ করে। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো ক্র্যাম্প প্রতিরোধ করে। একই সঙ্গে কলার ট্রিপটোফ্যান মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা শরীরের ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। দুপুরের খাবার কিংবা রাতের খাবারের পর একটি কলা আপনার ঘুমের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে।

 

ঐতিহ্যগতভাবে ঘুমের সহায়তায় গরম দুধের জুড়ি নেই। দুধের শীতল প্রকৃতি শরীরের ওপর শান্ত প্রভাব ফেলে। এর সঙ্গে এক চিমটি হলুদ এবং সামান্য জায়ফল মিশিয়ে ফুটিয়ে খেলে সেরা ফলাফল পাওয়া যায়। হলুদ শরীরের প্রদাহ কমায় এবং জায়ফল অনিদ্রা দূর করে গভীর ঘুম নিশ্চিত করে।

 

প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিন হরমোনের সরবরাহ বাড়াতে চেরি ফলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মেলাটোনিন সরাসরি শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়। সন্ধ্যায় এক বাটি তাজা চেরি খেলে পিত্তের ভারসাম্যহীনতা কমে এবং প্রাকৃতিকভাবেই চোখে ঘুম নেমে আসে। সুতরাং, ওষুধের ওপর নির্ভর না করে এই প্রাকৃতিক খাবারগুলো নিয়মিত গ্রহণের মাধ্যমে আপনি ফিরে পেতে পারেন প্রশান্তির ঘুম।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

খাদ্যাভ্যাসে আনুন সামান্য পরিবর্তন, দূর হবে অনিদ্রার চিরচেনা সমস্যা

ভালো ঘুমের জন্য সেরা চার সুপারফুড: বদলাবে জীবনযাত্রা

Update Time : ০৪:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি | এআই

 

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ আর প্রযুক্তির নেশায় আমাদের প্রাত্যহিক রুটিন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একটি অতি প্রয়োজনীয় উপাদান—শান্তিময় ঘুম।

 

অনিদ্রা বা ঘুমের মান খারাপ হওয়ার পেছনে মানসিক চাপ কিংবা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম যতটা দায়ী, আমাদের খাদ্যাভ্যাসও ঠিক ততটাই প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিশেষ ‘সুপারফুড’ আমাদের শরীরের স্নায়ু ও পেশিকে শিথিল করে প্রাকৃতিকভাবে গভীর ঘুমে সাহায্য করতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের মান উন্নত করতে খাদ্যতালিকায় প্রথম সারিতে রাখা উচিত বাদাম। বাদাম ম্যাগনেসিয়ামের অন্যতম উৎস, যা শরীরের পেশিকে শিথিল করতে এবং মনকে শান্ত রাখতে ‘GABA’ নামক নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতা বাড়ায়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৫ থেকে ৭টি ভেজানো ও খোসা ছাড়ানো বাদাম খেলে ঘন ঘন রাত জাগার প্রবণতা কমে আসে। যারা রাতে পানীয় পছন্দ করেন, তাদের জন্য বাদামের দুধ একটি দারুণ বিকল্প।

 

পেশির টান বা ক্র্যাম্পের কারণে যাদের রাতে ঘুম ভেঙে যায়, তাদের জন্য কলা মহৌষধের মতো কাজ করে। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো ক্র্যাম্প প্রতিরোধ করে। একই সঙ্গে কলার ট্রিপটোফ্যান মেলাটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা শরীরের ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। দুপুরের খাবার কিংবা রাতের খাবারের পর একটি কলা আপনার ঘুমের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে।

 

ঐতিহ্যগতভাবে ঘুমের সহায়তায় গরম দুধের জুড়ি নেই। দুধের শীতল প্রকৃতি শরীরের ওপর শান্ত প্রভাব ফেলে। এর সঙ্গে এক চিমটি হলুদ এবং সামান্য জায়ফল মিশিয়ে ফুটিয়ে খেলে সেরা ফলাফল পাওয়া যায়। হলুদ শরীরের প্রদাহ কমায় এবং জায়ফল অনিদ্রা দূর করে গভীর ঘুম নিশ্চিত করে।

 

প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিন হরমোনের সরবরাহ বাড়াতে চেরি ফলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মেলাটোনিন সরাসরি শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়। সন্ধ্যায় এক বাটি তাজা চেরি খেলে পিত্তের ভারসাম্যহীনতা কমে এবং প্রাকৃতিকভাবেই চোখে ঘুম নেমে আসে। সুতরাং, ওষুধের ওপর নির্ভর না করে এই প্রাকৃতিক খাবারগুলো নিয়মিত গ্রহণের মাধ্যমে আপনি ফিরে পেতে পারেন প্রশান্তির ঘুম।