ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড? ময়নাতদন্তে শিশুর মৃত্যুর কারণ ‘পানিতে ডোবা’; প্যারোল না পাওয়া নিয়ে প্রশাসনের লুকোচুরি

কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখে সাদ্দামের আক্ষেপ: ‘ভালো বাবা হতে পারলাম না’

বাগেরহাটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তাঁদের ৯ মাসের শিশু সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বর্ণালীর লাশ উদ্ধার করা হয় এবং পাশেই নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় শিশু নাজিফকে। এই ঘটনার পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় যশোর কারাগারের ফটকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। আবেগঘন সেই মুহূর্তে সন্তানের মাথায় হাত রেখে সাদ্দাম আক্ষেপ করে বলেন, “আমি ভালো বাবা ও ভালো স্বামী হতে পারলাম না, আমাকে ক্ষমা করে দিও।”

 

ঘটনার শুরু থেকেই মৃত্যুটি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু নাজিফের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। অন্যদিকে স্বর্ণালীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, দীর্ঘদিন স্বামী কারাবন্দি থাকায় হতাশা থেকে স্বর্ণালী সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তবে দুদিন যেতেই পাল্টেছে দৃশ্যপট। স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার এখন এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা করেছেন। সাদ্দামের দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জন এবং পারিবারিক কলহের বিষয়গুলোও এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

 

অন্যদিকে, সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাদ্দামের পরিবার আবেদনের দাবি করলেও যশোর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্যারোলের জন্য কোনো লিখিত আবেদন তারা পায়নি। সময় স্বল্পতার কারণে যশোর কারাফটকেই মাত্র ৫ মিনিটের জন্য লাশ দেখার ব্যবস্থা করা হয়। সাদ্দামের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, অভাবের অভিযোগ সঠিক নয়, বরং সাদ্দাম আর কোনোদিন জেল থেকে বের হতে পারবে না—এমন দুশ্চিন্তা থেকে ভাবি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

 

উল্লেখ্য, ১১টি মামলার আসামি সাদ্দামকে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ির কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড? ময়নাতদন্তে শিশুর মৃত্যুর কারণ ‘পানিতে ডোবা’; প্যারোল না পাওয়া নিয়ে প্রশাসনের লুকোচুরি

কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখে সাদ্দামের আক্ষেপ: ‘ভালো বাবা হতে পারলাম না’

Update Time : ১০:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও তাঁদের ৯ মাসের শিশু সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বর্ণালীর লাশ উদ্ধার করা হয় এবং পাশেই নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় শিশু নাজিফকে। এই ঘটনার পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় যশোর কারাগারের ফটকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। আবেগঘন সেই মুহূর্তে সন্তানের মাথায় হাত রেখে সাদ্দাম আক্ষেপ করে বলেন, “আমি ভালো বাবা ও ভালো স্বামী হতে পারলাম না, আমাকে ক্ষমা করে দিও।”

 

ঘটনার শুরু থেকেই মৃত্যুটি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু নাজিফের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। অন্যদিকে স্বর্ণালীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, দীর্ঘদিন স্বামী কারাবন্দি থাকায় হতাশা থেকে স্বর্ণালী সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তবে দুদিন যেতেই পাল্টেছে দৃশ্যপট। স্বর্ণালীর বাবা রুহুল আমিন হাওলাদার এখন এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা করেছেন। সাদ্দামের দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জন এবং পারিবারিক কলহের বিষয়গুলোও এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

 

অন্যদিকে, সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাদ্দামের পরিবার আবেদনের দাবি করলেও যশোর জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্যারোলের জন্য কোনো লিখিত আবেদন তারা পায়নি। সময় স্বল্পতার কারণে যশোর কারাফটকেই মাত্র ৫ মিনিটের জন্য লাশ দেখার ব্যবস্থা করা হয়। সাদ্দামের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, অভাবের অভিযোগ সঠিক নয়, বরং সাদ্দাম আর কোনোদিন জেল থেকে বের হতে পারবে না—এমন দুশ্চিন্তা থেকে ভাবি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

 

উল্লেখ্য, ১১টি মামলার আসামি সাদ্দামকে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ির কবরস্থানে মা ও ছেলেকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।