ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মুক্তির অপেক্ষায় ‘জন নায়াগান’, সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন; প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দমে না যাওয়ার অঙ্গীকার তামিল সুপারস্টারের

‘এই মুখ কি চাপের কাছে নত হওয়ার?’: রাজনীতি ও সেন্সর জট নিয়ে থালাপতি বিজয়ের হুঙ্কার

  • বিনোদন ডেস্ক
  • Update Time : ০১:৪০:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৭ Time View

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার মেগাস্টার থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদে রূপ নেওয়া থালাপতি বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আইনি চাপের কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। রবিবার তামিলনাড়ুর মহাবালিপুরমে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’-এর মুক্তি সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা এবং কারুরে পদদলনের ঘটনায় সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ার প্রেক্ষাপটে বিজয়ের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

বক্তব্যে বিজয় বলেন, “আমরা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করি না। এই মুখটা কি দেখে মনে হয় চাপের কাছে নত হবে?” আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে একটি ‘গণতান্ত্রিক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ঘোষণা দেন, অন্য কোনো বড় দলের সঙ্গে জোট না করে স্বাধীনভাবেই লড়াই করবে তাঁর দল ‘টিভিকে’। দীর্ঘ ৩০ বছরের ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে থাকা অবস্থায় কেন তিনি রাজনীতিতে এলেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজয় প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে ওই দলগুলো সাধারণ মানুষকে ছোট করে দেখেছে, যার জবাব দিতেই তাঁর এই নতুন পথচলা।

 

এদিন বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শিস’ (Whistle) উন্মোচন করেন। প্রতীক উন্মোচনের সময় সমর্থকরা উল্লাসে শিস বাজাতে শুরু করলে বিজয় নিজেও হেসে শিস বাজিয়ে কর্মীদের মাঝে বাড়তি উন্মাদনা ছড়িয়ে দেন। এদিকে, তাঁর সিনেমা ‘জন নায়াগান’ ৯ জানুয়ারি মুক্তির কথা থাকলেও সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) থেকে এখনো ছাড়পত্র পায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণেই এই বিলম্ব। এই সেন্সর জট নিয়ে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে ঘোষণার কথা রয়েছে, যা বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

সব মিলিয়ে সিবিআই তদন্ত, সেন্সর বোর্ডের বাধা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চাপ—সবকিছুকে তুচ্ছ করে বিজয় এখন ভোটের ময়দানে নামতে প্রস্তুত। নিজের রাজনৈতিক দর্শন এবং জনগণের ভালোবাসার ওপর ভর করে তিনি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরুর বার্তা দিলেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

মুক্তির অপেক্ষায় ‘জন নায়াগান’, সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন; প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দমে না যাওয়ার অঙ্গীকার তামিল সুপারস্টারের

‘এই মুখ কি চাপের কাছে নত হওয়ার?’: রাজনীতি ও সেন্সর জট নিয়ে থালাপতি বিজয়ের হুঙ্কার

Update Time : ০১:৪০:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার মেগাস্টার থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদে রূপ নেওয়া থালাপতি বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আইনি চাপের কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। রবিবার তামিলনাড়ুর মহাবালিপুরমে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’-এর মুক্তি সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা এবং কারুরে পদদলনের ঘটনায় সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ার প্রেক্ষাপটে বিজয়ের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

বক্তব্যে বিজয় বলেন, “আমরা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করি না। এই মুখটা কি দেখে মনে হয় চাপের কাছে নত হবে?” আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে একটি ‘গণতান্ত্রিক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ঘোষণা দেন, অন্য কোনো বড় দলের সঙ্গে জোট না করে স্বাধীনভাবেই লড়াই করবে তাঁর দল ‘টিভিকে’। দীর্ঘ ৩০ বছরের ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে থাকা অবস্থায় কেন তিনি রাজনীতিতে এলেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজয় প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে ওই দলগুলো সাধারণ মানুষকে ছোট করে দেখেছে, যার জবাব দিতেই তাঁর এই নতুন পথচলা।

 

এদিন বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘শিস’ (Whistle) উন্মোচন করেন। প্রতীক উন্মোচনের সময় সমর্থকরা উল্লাসে শিস বাজাতে শুরু করলে বিজয় নিজেও হেসে শিস বাজিয়ে কর্মীদের মাঝে বাড়তি উন্মাদনা ছড়িয়ে দেন। এদিকে, তাঁর সিনেমা ‘জন নায়াগান’ ৯ জানুয়ারি মুক্তির কথা থাকলেও সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) থেকে এখনো ছাড়পত্র পায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণেই এই বিলম্ব। এই সেন্সর জট নিয়ে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে ঘোষণার কথা রয়েছে, যা বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

সব মিলিয়ে সিবিআই তদন্ত, সেন্সর বোর্ডের বাধা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চাপ—সবকিছুকে তুচ্ছ করে বিজয় এখন ভোটের ময়দানে নামতে প্রস্তুত। নিজের রাজনৈতিক দর্শন এবং জনগণের ভালোবাসার ওপর ভর করে তিনি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরুর বার্তা দিলেন।