ঢাকা , শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ইরান যুদ্ধে সহায়তা না পাওয়ায় মিত্রদের তীব্র হুঁশিয়ারি

ইরান যুদ্ধে সাড়া না দেয়ায় ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

 

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনায় কাঙ্ক্ষিত সহায়তা না পেয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ওপর চরম ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখতে সেনা মোতায়েনে ব্যর্থ হওয়ায় মিত্র দেশগুলোকেকাপুরুষবলে অভিহিত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য আটলান্টিক পাড়ের দীর্ঘদিনের সামরিক মিত্রদের মধ্যে নতুন করে ফাটল তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ন্যাটোকে একটিকাগুজে বাঘহিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ন্যাটোর কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ বোঝে, কিন্তু যখন পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে থামানোর লড়াই শুরু হলো, তখন তারা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে।ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একাই এই সামরিক লড়াইয়ে জয়লাভ করেছে, যেখানে মিত্রদের জন্য ঝুঁকির পরিমাণ ছিল অত্যন্ত নগণ্য। কিন্তু তারা সেই ঝুঁকিটুকু নিতেও সাহস দেখায়নি।

 

বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে মিত্র দেশগুলোর অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, “তারা তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে আমাদের কাছে নালিশ করছে, অথচ এই দাম দিতে তারা নিজেরাই বাধ্য হচ্ছে। কারণ তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বা এর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো সামরিক সহায়তা করতে চায় না।উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ, যা বর্তমানে ইরানইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাতে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই পথটি সচল রাখা একটি সাধারণ সামরিক কৌশল মাত্র, যা ন্যাটো চাইলে অনায়াসেই করতে পারত।

 

মিত্রদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, “অত্যন্ত কম ঝুঁকিতে এটি করা তাদের জন্য খুবই সহজ ছিল। কিন্তু তারা সেটি করেনি। কাপুরুষের দল, আমরা এই বিশ্বাসভঙ্গ মনে রাখব!” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ন্যাটোর সদর দপ্তর বা ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এইআমেরিকা ফার্স্টনীতি এবং মিত্রদের প্রকাশ্য অপমান ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে যখন বৈশ্বিক সংহতি প্রয়োজন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এমন একতরফা অবস্থান পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধে সাড়া না দেয়ায় ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধে সহায়তা না পাওয়ায় মিত্রদের তীব্র হুঁশিয়ারি

ইরান যুদ্ধে সাড়া না দেয়ায় ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ট্রাম্প

Update Time : ১০:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনায় কাঙ্ক্ষিত সহায়তা না পেয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ওপর চরম ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখতে সেনা মোতায়েনে ব্যর্থ হওয়ায় মিত্র দেশগুলোকেকাপুরুষবলে অভিহিত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য আটলান্টিক পাড়ের দীর্ঘদিনের সামরিক মিত্রদের মধ্যে নতুন করে ফাটল তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি ন্যাটোকে একটিকাগুজে বাঘহিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ন্যাটোর কোনো অস্তিত্ব নেই। তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ বোঝে, কিন্তু যখন পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে থামানোর লড়াই শুরু হলো, তখন তারা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে।ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একাই এই সামরিক লড়াইয়ে জয়লাভ করেছে, যেখানে মিত্রদের জন্য ঝুঁকির পরিমাণ ছিল অত্যন্ত নগণ্য। কিন্তু তারা সেই ঝুঁকিটুকু নিতেও সাহস দেখায়নি।

 

বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে মিত্র দেশগুলোর অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, “তারা তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে আমাদের কাছে নালিশ করছে, অথচ এই দাম দিতে তারা নিজেরাই বাধ্য হচ্ছে। কারণ তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বা এর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো সামরিক সহায়তা করতে চায় না।উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ, যা বর্তমানে ইরানইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী সংঘাতে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই পথটি সচল রাখা একটি সাধারণ সামরিক কৌশল মাত্র, যা ন্যাটো চাইলে অনায়াসেই করতে পারত।

 

মিত্রদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, “অত্যন্ত কম ঝুঁকিতে এটি করা তাদের জন্য খুবই সহজ ছিল। কিন্তু তারা সেটি করেনি। কাপুরুষের দল, আমরা এই বিশ্বাসভঙ্গ মনে রাখব!” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ন্যাটোর সদর দপ্তর বা ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এইআমেরিকা ফার্স্টনীতি এবং মিত্রদের প্রকাশ্য অপমান ন্যাটোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে যখন বৈশ্বিক সংহতি প্রয়োজন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এমন একতরফা অবস্থান পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে।