ইরানের সাথে চলমান তীব্র যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে, ইরানের নজিরবিহীন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে গিয়ে তাদের হাতে থাকা ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সেমাফর‘ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ফুরিয়ে আসায় ইসরায়েলের আকাশসীমা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে।
গত বছর ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সীমিত যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েল ইন্টারসেপ্টর সংকটে পড়েছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরান ধারাবাহিকভাবে শত শত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, যার ফলে ইসরায়েলের দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করতে শুরু করায় ইসরায়েলি ইন্টারসেপ্টরগুলোর কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ক্লাস্টার বোমার কারণে একটি মিসাইল ঠেকাতে একাধিক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা মজুত দ্রুত শূন্য করে দিচ্ছে।
ইসরায়েলের সুপরিচিত ‘আয়রন ডোম’ ব্যবস্থা মূলত হামাস বা হিজবুল্লাহর ছোড়া স্বল্প পাল্লার রকেট রুখতে কার্যকর। কিন্তু তেহরানের ছোড়া শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলকে অ্যারো (Arrow) এবং ডেভিড স্লিঙের (David’s Sling) মতো ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টরের ওপর নির্ভর করতে হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজে ইন্টারসেপ্টরের সংকটে নেই, তবে ইসরায়েলের এই আকস্মিক ঘাটতি তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেন্টাগন ইতিমধ্যে থাড (THAAD) এবং প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের উৎপাদন বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর জুনের সংঘাতের সময় প্রথম পাঁচ দিনেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২৪০ কোটি ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ইসরায়েলকে সরবরাহ করেছিল। এবার দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ব্যয়ের পরিমাণ এবং ইন্টারসেপ্টরের ব্যবহার পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দ্রুত মজুত পূরণ করা না যায় এবং ইরান যদি হামলার গতি অব্যাহত রাখে, তবে ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়তে পারে। সংঘাতের বর্তমান গতিপ্রকৃতি দেখে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 















