ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
দীর্ঘ উপবাসের পর তাৎক্ষণিক শক্তি আর সুস্থতার জাদুকরী দাওয়াই—মরুভূমির এই ফল।

ইফতারে কেন খেজুর অপরিহার্য? জেনে নিন এর বৈজ্ঞানিক ও পুষ্টিগুণ

রমজান মাসে সূর্যাস্তের সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমান একটি বিশেষ ফলের মাধ্যমে তাদের রোজা ভাঙেন—আর সেটি হলো খেজুর। ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে শুরু হওয়া এই প্রথা আজ আধুনিক বিজ্ঞানের কাছেও এক পরম বিস্ময়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরের জন্য কেন খেজুর এত আদর্শ, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

 

১. তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশিরের মতে, দীর্ঘ সময় উপবাসের ফলে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। শরীর তখন দ্রুত শক্তির খোঁজ করে। খেজুর প্রাকৃতিকভাবেই চিনি বা গ্লুকোজে ভরপুর, যা রক্তে দ্রুত মিশে গিয়ে শরীরকে নিমিষেই চনমনে করে তোলে। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ‘জ্বালানি’ হিসেবে কাজ করে।

 

 

২. পাকস্থলীর জন্য স্বস্তিদায়ক

সারাদিন পাকস্থলী বিশ্রামে থাকার পর ভারী খাবার হজম করা কঠিন হতে পারে। খেজুর অত্যন্ত সহজে হজমযোগ্য। এটি পাকস্থলীকে সক্রিয় করে এবং পরবর্তী ভারী খাবার গ্রহণের জন্য পাচনতন্ত্রকে প্রস্তুত করে।

 

 

৩. অনন্য পুষ্টিগুণে ঠাসা

খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ (Fiber), পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন-বি৬।

  • আঁশ: হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
  • পটাশিয়াম: শরীরে ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

 

৪. কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা

ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, নবী (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করাকে বরকতময় বলেছেন। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে খেজুরের মহিমা বর্ণিত হয়েছে, যা মুসলিমদের কাছে এই ফলটিকে ধর্মীয়ভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

খেজুর। সূর্যাস্তের সময় বিশ্বের কোটি মুসলমান এই খাবারটিকে বেছে নেন রোজা ভাঙার জন্য।

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। রমজান মাসে, মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, ইসলামের নবী রোজা ভাঙার জন্য খেজুর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থ কুরআনেও বেশ কয়েকটি জায়গায় খেজুরের উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু খেজুরে এমন কী চিকিৎসাগত উপকারিতা রয়েছে যা রোজাদারদের জন্য একটি আদর্শ খাবার করে তোলে?

 

 

 

অনন্য ‘পুষ্টিগত উপকারিতা’

রমজান মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় কিছু না খেয়ে থাকতে হয়। অনেকক্ষণ ধরে না খাওয়ার পর খেজুরের পুষ্টিগুণ মানুষের পাকস্থলীর জন্য একটি চমৎকার খাবার।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশির বলছেন, “যখন আপনি রোজা ভাঙেন, তখন আপনার শরীর তাৎক্ষণিকভাবে গ্লুকোজ তৈরির চেষ্টা করে, কারণ শরীরে জ্বালানি হিসেবে এটির প্রয়োজন হয়।”

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

দীর্ঘ উপবাসের পর তাৎক্ষণিক শক্তি আর সুস্থতার জাদুকরী দাওয়াই—মরুভূমির এই ফল।

ইফতারে কেন খেজুর অপরিহার্য? জেনে নিন এর বৈজ্ঞানিক ও পুষ্টিগুণ

Update Time : ০৬:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজান মাসে সূর্যাস্তের সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমান একটি বিশেষ ফলের মাধ্যমে তাদের রোজা ভাঙেন—আর সেটি হলো খেজুর। ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে শুরু হওয়া এই প্রথা আজ আধুনিক বিজ্ঞানের কাছেও এক পরম বিস্ময়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরের জন্য কেন খেজুর এত আদর্শ, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

 

১. তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশিরের মতে, দীর্ঘ সময় উপবাসের ফলে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। শরীর তখন দ্রুত শক্তির খোঁজ করে। খেজুর প্রাকৃতিকভাবেই চিনি বা গ্লুকোজে ভরপুর, যা রক্তে দ্রুত মিশে গিয়ে শরীরকে নিমিষেই চনমনে করে তোলে। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ‘জ্বালানি’ হিসেবে কাজ করে।

 

 

২. পাকস্থলীর জন্য স্বস্তিদায়ক

সারাদিন পাকস্থলী বিশ্রামে থাকার পর ভারী খাবার হজম করা কঠিন হতে পারে। খেজুর অত্যন্ত সহজে হজমযোগ্য। এটি পাকস্থলীকে সক্রিয় করে এবং পরবর্তী ভারী খাবার গ্রহণের জন্য পাচনতন্ত্রকে প্রস্তুত করে।

 

 

৩. অনন্য পুষ্টিগুণে ঠাসা

খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ (Fiber), পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন-বি৬।

  • আঁশ: হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
  • পটাশিয়াম: শরীরে ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

 

৪. কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা

ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, নবী (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করাকে বরকতময় বলেছেন। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে খেজুরের মহিমা বর্ণিত হয়েছে, যা মুসলিমদের কাছে এই ফলটিকে ধর্মীয়ভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

খেজুর। সূর্যাস্তের সময় বিশ্বের কোটি মুসলমান এই খাবারটিকে বেছে নেন রোজা ভাঙার জন্য।

ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের মধ্যে রোজা অন্যতম। রমজান মাসে, মুসলমানরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, ইসলামের নবী রোজা ভাঙার জন্য খেজুর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থ কুরআনেও বেশ কয়েকটি জায়গায় খেজুরের উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু খেজুরে এমন কী চিকিৎসাগত উপকারিতা রয়েছে যা রোজাদারদের জন্য একটি আদর্শ খাবার করে তোলে?

 

 

 

অনন্য ‘পুষ্টিগত উপকারিতা’

রমজান মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় কিছু না খেয়ে থাকতে হয়। অনেকক্ষণ ধরে না খাওয়ার পর খেজুরের পুষ্টিগুণ মানুষের পাকস্থলীর জন্য একটি চমৎকার খাবার।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশির বলছেন, “যখন আপনি রোজা ভাঙেন, তখন আপনার শরীর তাৎক্ষণিকভাবে গ্লুকোজ তৈরির চেষ্টা করে, কারণ শরীরে জ্বালানি হিসেবে এটির প্রয়োজন হয়।”