সংগৃহীত ছবি
হলিউডের কিংবদন্তি নির্মাতা জেমস ক্যামেরন মানেই রূপালি পর্দায় নতুন কোনো বিস্ময়। তাঁর হাত ধরেই বিশ্ববাসী চিনেছে প্যানডোরার নীল মানুষদের জগত ‘অ্যাভাটার’। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার খোদ নির্মাতার কপালে চিন্তার ভাঁজ। সিরিজের সাম্প্রতিকতম ছবি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ বক্স অফিসে বড় অংকের আয় করলেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী লাভের মুখ দেখেনি, যার ফলে সিরিজের চতুর্থ কিস্তি নির্মাণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
গত সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘স্যাটার্ন অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জেমস ক্যামেরন সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খোলেন। চতুর্থ কিস্তি নির্মাণ হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত তবে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। ক্যামেরন শুধু বলেন, ‘অনেকটাই সম্ভাবনা আছে।’ তবে এই সম্ভাবনার পেছনে যে বড় ধরনের বাণিজ্যিক হিসেব-নিকেশ ও শর্ত জুড়ে আছে, সেটিও তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। সাধারণ সিনেমার ক্ষেত্রে এটি অভাবনীয় সাফল্য মনে হলেও, জেমস ক্যামেরনের বিশাল বাজেটের এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমার জন্য এই অংকটি পর্যাপ্ত নয়। সিরিজের আগের কিস্তি ‘দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’-এর তুলনায় এই ছবিটির আয় প্রায় ৮৭০ মিলিয়ন ডলার কম। বিপুল নির্মাণ ও বিপণন ব্যয়ের কারণে ছবিটি এখনও ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট বা লাভের মুখ দেখতে পায়নি। আর এই ব্যবসায়িক ঘাটতিই এখন চতুর্থ কিস্তির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিচালক জেমস ক্যামেরন অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বর্তমান বিশ্ব চলচ্চিত্র শিল্প এক কঠিন সময় পার করছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের দাপট আর দর্শকদের রুচি পরিবর্তনের কারণে প্রেক্ষাগৃহে বড় বাজেটের সিনেমা টিকিয়ে রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে তিনি নির্মাণ ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্যানডোরা জগতের পরবর্তী যাত্রা পুরোপুরি নির্ভর করছে দর্শকদের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া এবং বক্স অফিস থেকে আসা নিট মুনাফার ওপর।
উল্লেখ্য, ‘টাইটানিক’ ও ‘টার্মিনেটর’-এর মতো কালজয়ী সিনেমার এই কারিগর সবসময়ই চলচ্চিত্রের ব্যাকরণ বদলে দিয়েছেন। তবে ‘অ্যাভাটার ৪’-এর ভাগ্য এখন ঝুলে আছে ‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর। ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত কি জেমস ক্যামেরন আবারও প্যানডোরার জাদুতে বিশ্বকে মাতাতে পারবেন, নাকি মাঝপথেই থেমে যাবে এই মহাকাব্যিক যাত্রা? এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।















