সংগৃহীত ছবি
যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরুর দিকের সেই তীব্র আবেগ বা ‘প্রজাপতি ওড়ার অনুভূতি’ কিছুটা কমে আসা স্বাভাবিক। তীব্র আবেগ আর ভালোলাগার জায়গায় তখন স্থান করে নেয় গভীর নির্ভরতা, স্বস্তি এবং প্রতিদিনের চেনা পারিবারিক রুটিন। তবে অনেক সময় সঙ্গী বা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে এই চেনা ছন্দই রূপ নেয় চরম একঘেয়েমিতে। তখন ভালোবাসার মানুষটিকে জীবনসঙ্গীর চেয়ে একজন ‘রুমমেট’ বা একই ছাদের নিচে থাকা কেবল সহকর্মী মনে হতে শুরু করে। মনস্তত্ত্ব ও সম্পর্ক গবেষকদের ভাষায় সম্পর্কের এই নিঃশব্দ দূরত্বকে বলা হচ্ছে ‘প্যারালাল লাইফ সিন্ড্রোম’ বা ‘সমান্তরাল জীবনধারা’।
নিউইয়র্ক-ভিত্তিক ডেইটিং প্রশিক্ষক ও ‘এ লিটল নাজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা এরিকা এটিন জানান, এই উপসর্গে আক্রান্ত দম্পতিরা মূলত একসঙ্গে জীবন পার করেন না, বরং দুটি সমান্তরাল লাইনে বেঁচে থাকেন যেখানে কোনো মিলন ঘটে না। সারাদিনের রুটিন তো বটেই, এমনকি ঘরে ফিরে একই বিছানায় পাশাপাশি শুয়ে থাকলেও তারা সময় পার করেন নিজ নিজ ফোনের স্ক্রিনে। এতে তারা শারীরিকভাবে কাছে থাকলেও মানসিকভাবে দুটি ভিন্ন জগতের বাসিন্দা হয়ে যান। লস অ্যাঞ্জেলেস-ভিত্তিক ‘কাপল থেরাপিস্ট’ ডা. প্যাট্রিস লে গয় এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল ৩টি লক্ষণ হলো— নিজের ক্যারিয়ার বা স্বাস্থ্যের বড় বিষয়ে সঙ্গীকে না জানিয়ে একাকী সিদ্ধান্ত নেওয়া, বাড়ি ফিরে জড়িয়ে ধরা বা হাত ধরার মতো সূক্ষ্ম দৈনন্দিন স্পর্শ বা ‘মাইক্রো-কানেকশন’ হারিয়ে যাওয়া এবং সম্পর্কে কোনো বড় ঝগড়া না থাকায় সবকিছু ‘ঠিক আছে’ ভেবে রোমান্স ও ‘ডেট নাইট’ পুরোপুরি অবহেলা করা।
তবে বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করছেন, সদিচ্ছা ও সচেতন চেষ্টা থাকলে এই সমান্তরাল রেখাকে আবারও এক বিন্দুতে মেলানো সম্ভব। এর জন্য তারা ৩টি বৈজ্ঞানিক উপায়ের কথা বলেছেন:
১. ছোট ছোট সংযোগের পুনরুজ্জীবন: রাতারাতি বড় পরিবর্তন না করে অফিস থেকে ফেরার সময় সঙ্গীর প্রিয় খাবার কেনা, ফোন দূরে রেখে দিনের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার মতো ছোট অভ্যাস গড়ে তোলা।
২. প্রযুক্তি ছেড়ে সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়া: সোফায় বসে ফোন দেখার অভ্যাস বদলে সপ্তাহে অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় বের করা যেখানে কোনো গ্যাজেট থাকবে না— যেমন বারান্দায় বসে চা খাওয়া বা ১৫ মিনিট হাঁটা।
৩. পরিকল্পিত সময় কাটানো: ব্যস্ত জীবনের মাঝে ক্যালেন্ডারে ‘ডেট নাইট’ বা একান্তে সময় কাটানোর দিন আগে থেকে ঠিক করে রাখা এবং তাকে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের মতোই অগ্রাধিকার দেওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সফল সম্পর্কের মূল ভিত্তি কোনো বড় উপহারে নয়, বরং লুকিয়ে থাকে প্রতিদিনের সচেতন যত্নে। গাছের মতো বৈবাহিক জীবনের ভালোবাসাকেও টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন একটু একটু করে পরিচর্যা করা জরুরি।

















