ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফুসফুসে ঠান্ডা লাগা ও ইনফেকশন এড়াতে চিকিৎসকদের পরামর্শ

বৃষ্টিতে ভিজলেই সর্দি-জ্বর? সুস্থ থাকার ৫ চাবিকাঠি

প্রতীকী ছবি

 

আষাঢ়ের বর্ষাকাল মানেই ক্ষণে ঝমঝমিয়ে মুষলধারে বৃষ্টি, আবার পরক্ষণেই তীব্র প্যাচপ্যাচে কড়া রোদ। আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালি আচরণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় কিংবা দিনশেষে বাড়ি ফেরার পথে আচমকা বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে কমবেশি সবাইকে।

 

 

চিকিৎসকদের মতে, এই মৌসুমে বৃষ্টিতে ভিজলেই হুট করে মানবদেহের ভেতরের তাপমাত্রা বদলে যায় (Thermal Shock)। আর তাপমাত্রার এই আকস্মিক ওঠানামার সুযোগ নিয়েই পরিবেশে থাকা ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ারা মানবশরীরে দ্বিগুণ সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার ফলে হু হু করে বাড়ে সর্দি, কাশি, সাইনাস ও ভাইরাল জ্বরের ঝুঁকি। তবে একটু সচেতন ও সতর্ক থাকলেই বর্ষার এই মৌসুমেও সুস্থ থাকা সম্ভব। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘টিভি নাইন’-এর এক বিশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীরকে দ্রুত সুস্থ ও চাঙ্গা রাখার কিছু বিজ্ঞানসম্মত উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

১. দ্রুত ভেজা পোশাক বদলে ফেলা: অফিসে যাওয়ার পথে কিংবা বাসায় ফেরার সময় বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব গায়ের ভেজা জামাকাপড় বদলে শুকনো সুতি পোশাক পরে ফেলুন। কোনো অবস্থাতেই ভেজা পোশাকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) ঘরে কিংবা সরাসরি ফ্যানের বাতাসের নিচে বসা যাবে না। চিকিৎসকদের মতে, ভেজা কাপড়ে এসিতে ঢুকলে ফুসফুসে তীব্র ঠান্ডা লেগে বুক বসে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সমস্যা এড়াতে বর্ষার দিনগুলোয় ব্যাগে সবসময় একটি ওয়াটারপ্রুফ প্লাস্টিকের প্যাকেটে এক জোড়া বাড়তি শুকনো পোশাক ও ছোট তোয়ালে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

 

 

২. হালকা গরম পানিতে গোসল: অনেকেরই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, বৃষ্টিতে ভেজার পর আবার গোসল করলে বুঝি বেশি ঠান্ডা লাগবে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরে প্রথমেই হালকা গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে গোসল করে নেওয়া উচিত। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক (Homoeostasis) হতে সাহায্য করে এবং বৃষ্টির পানিতে থাকা বায়ুমণ্ডলের ক্ষতিকর রাসায়নিক ও জীবাণু শরীর থেকে ধুয়ে যায়। গোসলের পর অবশ্যই মাথা ও ভেজা চুল ড্রায়ার বা শুকনো তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিতে হবে, কারণ মাথা দীর্ঘক্ষণ ভেজা থাকলে সাইনাসের ব্যথা বা তীব্র মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

 

 

৩. পায়ের বিশেষ যত্ন ইমিউনিটি বৃদ্ধি: বর্ষায় রাস্তার জমে থাকা নোংরা পানি ও কাদায় অসংখ্য ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা ত্বকে মারাত্মক ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ‘অ্যাথলেটস ফুট’ তৈরি করে। তাই বাড়ি ফিরেই সাবান ও হালকা গরম পানি দিয়ে ঘষে ঘষে পা পরিষ্কার করতে হবে। এর পাশাপাশি বর্ষার দিনে প্লাস্টিক বা দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন জুতো পরা উচিত। গোসল শেষে আদা, লবঙ্গ ও তুলসি পাতা দিয়ে তৈরি এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম ভেষজ চা কিংবা কফি পান করলে শরীর দ্রুত চাঙ্গা হয়। এছাড়া শরীরের ভেতরের প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবু, আমলকি বা পেয়ারার মতো ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি, যা প্রাকৃতিকভাবেই ভাইরাল ইনফেকশন রুখে দেয়।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ফুসফুসে ঠান্ডা লাগা ও ইনফেকশন এড়াতে চিকিৎসকদের পরামর্শ

বৃষ্টিতে ভিজলেই সর্দি-জ্বর? সুস্থ থাকার ৫ চাবিকাঠি

Update Time : ১১:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

প্রতীকী ছবি

 

আষাঢ়ের বর্ষাকাল মানেই ক্ষণে ঝমঝমিয়ে মুষলধারে বৃষ্টি, আবার পরক্ষণেই তীব্র প্যাচপ্যাচে কড়া রোদ। আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালি আচরণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন কর্মজীবী মানুষ। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় কিংবা দিনশেষে বাড়ি ফেরার পথে আচমকা বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে কমবেশি সবাইকে।

 

 

চিকিৎসকদের মতে, এই মৌসুমে বৃষ্টিতে ভিজলেই হুট করে মানবদেহের ভেতরের তাপমাত্রা বদলে যায় (Thermal Shock)। আর তাপমাত্রার এই আকস্মিক ওঠানামার সুযোগ নিয়েই পরিবেশে থাকা ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ারা মানবশরীরে দ্বিগুণ সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার ফলে হু হু করে বাড়ে সর্দি, কাশি, সাইনাস ও ভাইরাল জ্বরের ঝুঁকি। তবে একটু সচেতন ও সতর্ক থাকলেই বর্ষার এই মৌসুমেও সুস্থ থাকা সম্ভব। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘টিভি নাইন’-এর এক বিশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীরকে দ্রুত সুস্থ ও চাঙ্গা রাখার কিছু বিজ্ঞানসম্মত উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

১. দ্রুত ভেজা পোশাক বদলে ফেলা: অফিসে যাওয়ার পথে কিংবা বাসায় ফেরার সময় বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব গায়ের ভেজা জামাকাপড় বদলে শুকনো সুতি পোশাক পরে ফেলুন। কোনো অবস্থাতেই ভেজা পোশাকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) ঘরে কিংবা সরাসরি ফ্যানের বাতাসের নিচে বসা যাবে না। চিকিৎসকদের মতে, ভেজা কাপড়ে এসিতে ঢুকলে ফুসফুসে তীব্র ঠান্ডা লেগে বুক বসে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সমস্যা এড়াতে বর্ষার দিনগুলোয় ব্যাগে সবসময় একটি ওয়াটারপ্রুফ প্লাস্টিকের প্যাকেটে এক জোড়া বাড়তি শুকনো পোশাক ও ছোট তোয়ালে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

 

 

২. হালকা গরম পানিতে গোসল: অনেকেরই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, বৃষ্টিতে ভেজার পর আবার গোসল করলে বুঝি বেশি ঠান্ডা লাগবে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরে প্রথমেই হালকা গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে গোসল করে নেওয়া উচিত। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক (Homoeostasis) হতে সাহায্য করে এবং বৃষ্টির পানিতে থাকা বায়ুমণ্ডলের ক্ষতিকর রাসায়নিক ও জীবাণু শরীর থেকে ধুয়ে যায়। গোসলের পর অবশ্যই মাথা ও ভেজা চুল ড্রায়ার বা শুকনো তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিতে হবে, কারণ মাথা দীর্ঘক্ষণ ভেজা থাকলে সাইনাসের ব্যথা বা তীব্র মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

 

 

৩. পায়ের বিশেষ যত্ন ইমিউনিটি বৃদ্ধি: বর্ষায় রাস্তার জমে থাকা নোংরা পানি ও কাদায় অসংখ্য ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা ত্বকে মারাত্মক ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ‘অ্যাথলেটস ফুট’ তৈরি করে। তাই বাড়ি ফিরেই সাবান ও হালকা গরম পানি দিয়ে ঘষে ঘষে পা পরিষ্কার করতে হবে। এর পাশাপাশি বর্ষার দিনে প্লাস্টিক বা দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন জুতো পরা উচিত। গোসল শেষে আদা, লবঙ্গ ও তুলসি পাতা দিয়ে তৈরি এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম ভেষজ চা কিংবা কফি পান করলে শরীর দ্রুত চাঙ্গা হয়। এছাড়া শরীরের ভেতরের প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লেবু, আমলকি বা পেয়ারার মতো ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি, যা প্রাকৃতিকভাবেই ভাইরাল ইনফেকশন রুখে দেয়।