ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বৈশ্বিক মহাযজ্ঞের মূল মঞ্চে নামার আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে গোল বন্যায় ভাসিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে পানামাকে ৬–২ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে সেলেসাওরা। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে ঘরের মাঠে আসা হাজারো সমর্থককে নিখাদ আনন্দ উপহার দিল ভিনিসিউস–ক্যাসেমিরোরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই পানামার রক্ষণভাগের ওপর স্টিম রোলার চালায় স্বাগতিকরা। রেফারির শুরুর বাঁশি বাজার ঠিক ১ম মিনিটেই লিড নেয় ব্রাজিল। মাঝমাঠ থেকে অধিনায়ক ক্যাসেমিরোর বাড়ানো নিখুঁত ও দূরদর্শী পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চোখধাঁধানো এক গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র। তবে ম্যাচের ১৩ মিনিটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে সমতায় ফেরে পানামা। দলটির ডিফেন্ডার মাইকেল মুরিলোর নেওয়া একটি ফ্রি–কিক দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্রাজিলের ম্যাথিউস কুনিয়ার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে তা ‘আত্মঘাতী‘ গোল হিসেবে গণ্য হয়।
সমতা ফেরার পর আবারও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে আবারও লিড পুনরুদ্ধার করে তারা। এবার ভিনিসিউস জুনিয়রের চমৎকার ক্রস থেকে বাতাসে ভেসে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে পাঠান অধিনায়ক ক্যাসেমিরো। ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আনচেলত্তির দল।
বিরতি থেকে ফিরে ব্রাজিল যেন আরও বেশি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কোচ কার্লো আনচেলত্তি গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে তুলে নিয়ে এডারসনকে মাঠে নামান। বিরতির পর মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের নিখুঁত সমন্বয়ে পানামার রক্ষণভাগকে স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেয় সেলেসাওরা। একের পর এক নান্দনিক আক্রমণে তারা আরও ৪টি গোল আদায় করে নেয়। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে পানামার কার্লোস হার্ভে একটি সান্ত্বনার গোল করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে, ব্রাজিলের আধিপত্যে কোনো চির ধরাতে পারেনি।
বিশ্বকাপের মূল মিশন শুরুর আগে এই জয় ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আগামী ৭ জুন নিজেদের পরবর্তী ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মোহামেদ সালাহর মিসরের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরপরই শুরু হবে সেলেসাওদের আসল বিশ্বকাপ মিশন। আগামী ১৪ জুন ‘সি’ গ্রুপে আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। এরপর ২০ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতি এবং ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির দল।

স্পোর্টস ডেস্ক 















