ছবি : সংগৃহীত
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মুকুটের জন্য আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের বিখ্যাত পুসকাস অ্যারেনায় ইউরোপসেরা হওয়ার চূড়ান্ত মহালড়াইয়ে আজ রাতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং ইংলিশ পরাশক্তি আর্সেনাল। দুই জায়ান্টের এই মেগা ফাইনালকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের মহারণকে সামনে রেখে নিজেদের রণকৌশল চূড়ান্ত করেছেন পিএসজির স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড ও হেড কোচ লুইস এনরিকে। ফাইনালের জন্য তিনি ঘোষণা করেছেন পূর্ণাঙ্গ ২৪ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড।
ঘোষিত এই স্কোয়াডে কোনো বড় চমক বা নাটকীয়তা না থাকলেও শক্তির দিক থেকে কোনো আপস করেননি এনরিকে। দলের প্রধান দুই মহাতারকা ওসমানে দেম্বেলে এবং আশরাফ হাকিমিকে নিয়েই বুদাপেস্টের বিমান ধরেছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। লুইস এনরিকের আক্রমণভাগের মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন ফরাসি উইঙ্গার ওসমানে দেম্বেলে। তার গতি এবং ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে চুরমার করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস কোচের। আক্রমণভাগে দেম্বেলের যোগ্য সঙ্গী হিসেবে থাকছেন জর্জিয়ান তারকা উইঙ্গার খভিচা কভারাৎসখেলিয়া, তরুণ তুর্কি ব্র্যাডলি বারকোলা এবং পর্তুগিজ স্ট্রাইকার গনসালো রামোস। কিলিয়ান এমবাপের বিদায়ের পর পিএসজির যে নতুন আক্রমণভাগ গড়ে উঠেছে, তার চূড়ান্ত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে আজ রাতের এই ফাইনাল মঞ্চে।
মাঝমাঠ বা মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বরাবরের মতোই কৌশলগত চাল চালছেন লুইস এনরিকে। মাঝমাঠে খেলার গতি ও বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি ভরসা রাখছেন অভিজ্ঞ ফ্যাবিয়ান রুইজ এবং ভিতিনহার ওপর। একই সঙ্গে মাঝমাঠের প্রাণশক্তি হিসেবে থাকছেন তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলার ওয়ারেন জাইরে–এমেরি। এই ত্রয়ীর পাসিং ও রক্ষণাত্মক ব্লক আর্সেনালের আক্রমণ রুখতে বড় ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া মাঝমাঠের ব্যাকআপ হিসেবে লি কাং–ইন এবং জোয়াও নেভেসের মতো তারকাদেরও স্কোয়াডে রাখা হয়েছে।
রক্ষণভাগ বা ডিফেন্সে পিএসজির জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো ইনজুরি কাটিয়ে দলে লুকাস হার্নান্দেজের প্রত্যাবর্তন। অভিজ্ঞ মার্কিনহোসের সঙ্গে রক্ষণভাগ সামলাবেন মরোক্কান তারকা আশরাফ হাকিমি। এছাড়া লুকাস বেরালদো এবং পাচোর মতো ডিফেন্ডাররা আর্সেনালের আক্রমণভাগের বুকায়ো সাকা কিংবা কাই হাভার্টজদের বোতলবন্দি করার জন্য প্রস্তুত থাকছেন। গোলপোস্টের নিচে প্রধান ভরসা হিসেবে থাকছেন সাফোনভ এবং শেভালিয়ার।
ফরাসি জায়ান্ট পিএসজির লক্ষ্য যেখানে তাদের ইউরোপীয় আধিপত্য ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি ঘরে তোলা, সেখানে আর্সেনালের লক্ষ্য ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে এলিট ক্লাবের তালিকায় নাম লেখানো। বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনার সবুজ গালিচায় আজ রাতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব।

স্পোর্টস ডেস্ক 















