ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে টাইগারদের সংগ্রহ ৩০১ রান

শান্তর রেকর্ড সেঞ্চুরি ও মমিনুলের আক্ষেপে বাংলাদেশের দিন

মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে লিটনকে কী পরামর্শ দিচ্ছেন মুশফিক? ছবি : সংগৃহীত ছবি

 

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি এবং মমিনুল হকের লড়াকু ইনিংসে ভর করে শক্ত অবস্থানে স্বাগতিকরা। দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩০১ রান। তবে দিনটি আরও বড় উদযাপনের হতে পারত, যদি মমিনুল হক তার সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করতে পারতেন। মাত্র ৯ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই বাঁহাতি ব্যাটারকে।

 

 

শুরুতে বিপর্যয়, তারপর শান্ত-মমিনুল কাব্য সকালে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা সুখকর ছিল না বাংলাদেশের। দলীয় ৩১ রানেই টপ অর্ডারের ২ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল দল, তখন হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাবেক অধিনায়ক মমিনুল হক। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন গড়েন ১৭০ রানের এক মহাকাব্যিক জুটি, যা ম্যাচকে পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এনে দেয়।

 

 

শান্তর ব্যাটিং ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বলে দৃষ্টিনন্দন এক কাভার ড্রাইভে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির পর হেলমেট উঁচিয়ে শূন্যে লাফিয়ে চিরচেনা উদযাপনে মাতেন তিনি। তবে রেকর্ডটা হয়েছে অন্য জায়গায়। অধিনায়ক হিসেবে এটি শান্তর ৫ম টেস্ট সেঞ্চুরি, যা বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কের জন্য সর্বোচ্চ। তিনি পেছনে ফেলেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে (৪টি)। তবে ব্যক্তিগত ১০১ রানেই তিনি সাজঘরে ফেরেন।

 

 

মমিনুলের রানের আক্ষেপ শান্তর দিনে আক্ষেপের নাম মমিনুল হক। সাবলীল ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন তিনি। কিন্তু ইনিংসের ৭৪তম ওভারে নোমান আলীর এক কুইকার বুঝতে ভুল করে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। ব্যক্তিগত ৯১ রানে রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। ১০টি চারে সাজানো তার এই ইনিংসটি থামায় মিরপুরের গ্যালারিতে স্তব্ধতা নেমে আসে।

 

 

দিনের শেষভাগ মুশফিক-লিটনের প্রতিরোধ শান্ত ও মমিনুল ফেরার পর শেষ বিকেলে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস আর কোনো বিপদ হতে দেননি। মুশফিক অপরাজিত আছেন ৪৮ রানে, যা আগামীকাল মাত্র ২ রান করতে পারলেই তার ২৯তম ফিফটিতে রূপ নেবে। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন লিটন দাস (৮*)।

পাকিস্তানের পক্ষে বোলাররা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। স্পিনার সালমান আলী আগা বাদে বাকি বোলাররা একটি করে উইকেট শিকার করেছেন। কালকের প্রথম সেশনটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্যে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে টাইগারদের সংগ্রহ ৩০১ রান

শান্তর রেকর্ড সেঞ্চুরি ও মমিনুলের আক্ষেপে বাংলাদেশের দিন

Update Time : ০৬:১৮:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে লিটনকে কী পরামর্শ দিচ্ছেন মুশফিক? ছবি : সংগৃহীত ছবি

 

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি এবং মমিনুল হকের লড়াকু ইনিংসে ভর করে শক্ত অবস্থানে স্বাগতিকরা। দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩০১ রান। তবে দিনটি আরও বড় উদযাপনের হতে পারত, যদি মমিনুল হক তার সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করতে পারতেন। মাত্র ৯ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই বাঁহাতি ব্যাটারকে।

 

 

শুরুতে বিপর্যয়, তারপর শান্ত-মমিনুল কাব্য সকালে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা সুখকর ছিল না বাংলাদেশের। দলীয় ৩১ রানেই টপ অর্ডারের ২ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল দল, তখন হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাবেক অধিনায়ক মমিনুল হক। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন গড়েন ১৭০ রানের এক মহাকাব্যিক জুটি, যা ম্যাচকে পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এনে দেয়।

 

 

শান্তর ব্যাটিং ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বলে দৃষ্টিনন্দন এক কাভার ড্রাইভে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির পর হেলমেট উঁচিয়ে শূন্যে লাফিয়ে চিরচেনা উদযাপনে মাতেন তিনি। তবে রেকর্ডটা হয়েছে অন্য জায়গায়। অধিনায়ক হিসেবে এটি শান্তর ৫ম টেস্ট সেঞ্চুরি, যা বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কের জন্য সর্বোচ্চ। তিনি পেছনে ফেলেছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে (৪টি)। তবে ব্যক্তিগত ১০১ রানেই তিনি সাজঘরে ফেরেন।

 

 

মমিনুলের রানের আক্ষেপ শান্তর দিনে আক্ষেপের নাম মমিনুল হক। সাবলীল ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন তিনি। কিন্তু ইনিংসের ৭৪তম ওভারে নোমান আলীর এক কুইকার বুঝতে ভুল করে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। ব্যক্তিগত ৯১ রানে রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। ১০টি চারে সাজানো তার এই ইনিংসটি থামায় মিরপুরের গ্যালারিতে স্তব্ধতা নেমে আসে।

 

 

দিনের শেষভাগ মুশফিক-লিটনের প্রতিরোধ শান্ত ও মমিনুল ফেরার পর শেষ বিকেলে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস আর কোনো বিপদ হতে দেননি। মুশফিক অপরাজিত আছেন ৪৮ রানে, যা আগামীকাল মাত্র ২ রান করতে পারলেই তার ২৯তম ফিফটিতে রূপ নেবে। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন লিটন দাস (৮*)।

পাকিস্তানের পক্ষে বোলাররা খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। স্পিনার সালমান আলী আগা বাদে বাকি বোলাররা একটি করে উইকেট শিকার করেছেন। কালকের প্রথম সেশনটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্যে।