পিএসজির কাছে আর্সেনালের পরাজয়ের পর মধ্য প্যারিসে ফ্লেয়ার জ্বালানো হয়। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয়ের পর ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) ঐতিহাসিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় রূপ নিয়েছে চরম সহিংসতায়। ট্রফি জয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে এখন পর্যন্ত চার শতাধিক ফুটবল ভক্তকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় সময় রোববার (৩১ মে) ফরাসি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাজধানী প্যারিসের আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগে থেকেই হাজার হাজার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে টাইব্রেকারে পিএসজির নাটকীয় জয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের একটি বড় অংশ রাস্তায় নেমে আসে এবং উদযাপন রূপ নেয় সহিংসতায়। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, প্যারিসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বাস, ট্রেনসহ সার্বিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ক্লাবের ঐতিহাসিক এই অর্জনে একদল অতি–উচ্ছ্বসিত সমর্থক শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে আতশবাজি ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরের কেন্দ্রস্থলে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া প্যারিসের রাস্তায় বেশ কিছু বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের বিখ্যাত ‘চ্যাম্পস ইলিসিস‘ এলাকায় সমবেত হওয়া হাজারো সমর্থকের মধ্যে কেউ কেউ আশেপাশের দোকানের কাচ ভাঙচুর করে এবং একটি বাসস্টপ ও বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালায়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, রাতের এই তাণ্ডবে অন্তত ছয়টি যানবাহন সম্পূর্ণ বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ম্যাচ চলাকালীন সময়েও পিএসজির ঘরের মাঠ ‘পার্ক দে প্রাঁস‘-এ বড় পর্দায় খেলা দেখতে আসা ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, পিএসজির বড় কোনো সাফল্যকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটল। এর আগে ২০২৫ সালেও ক্লাবটির একটি বড় জয় উদযাপনের সময় দেশটিতে ব্যাপক দাঙ্গা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটেছিল। ফলে ফুটবলীয় সাফল্য ছাপিয়ে বারবার ফরাসি সমর্থকদের এমন উগ্র আচরণ এখন দেশটির প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্পোর্টস ডেস্ক 















