ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ বছর বয়সী জাপানি কিপারের দেওয়ালে থমকে গেল আল নাসর

ওসাকার কাছে হেরে রোনালদোর শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ

ছবি : সংগৃহীত

 

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আল নাসরে আসার পর প্রথম কোনো অফিশিয়াল ট্রফি জয়ের মিশন এবারও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। ঘরের মাঠে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুর ফাইনালে সবাইকে চমকে দিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে জাপানিজ ক্লাব গাম্বা ওসাকা। প্রথম সৌদি দল হিসেবে এই টুর্নামেন্টের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার লড়াইতে আল নাসরই ছিল নিরঙ্কুশ ফেভারিট। ঘরের মাঠের চেনা গ্যালারিতে দর্শকরা যখন একপেশে জয়ের উৎসব করার অপেক্ষায় ছিলেন, তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয় গাম্বা ওসাকা।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়েছিল জর্জ জেসাসের শিষ্যরা। কিন্তু ম্যাচের ৩০তম মিনিটে আল নাসরের রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দেন গাম্বা ওসাকার ফরোয়ার্ড ডেনিজ হামেট। সতীর্থ ইসাম জাবেলির নিখুঁত পাস ধরে দুর্দান্ত এক নিচু শটে আল নাসরের জাল কাঁপান তিনি। এই একটি গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। গোল হজম করার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা, তবে ওসাকার সুসংগঠিত রক্ষণের সামনে বারবারই তাদের আক্রমণ বাধাগ্রস্ত হতে থাকে।

 

আল নাসরের আক্রমণভাগের দুই প্রধান অস্ত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও সাদিও মানের জন্য রাতটি ছিল চরম হতাশার। দুজনেই গোলের দেখা পেতে মাঠের সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলেন। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই মানে প্রথম গোল করার সহজ সুযোগ পান, কিন্তু ওসাকার ১৮ বছর বয়সী তরুণ গোলকিপার রুই আরাকিকে পরাস্ত করার মতো জোর ছিল না তাঁর শটে। অন্যদিকে প্রথমার্ধে রোনালদো বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও ওসাকার চমৎকার ডিফেন্সের কারণে জালের দেখা পাননি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ৮৬তম মিনিটে রোনালদো সমতা ফেরানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে তাঁর নেওয়া জোরালো শটটি গেন্তা মিউরা চমৎকারভাবে ব্লক করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।

 

পুরো ম্যাচে ৬৮ শতাংশ বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখেছিল আল নাসর। তারা গাম্বা ওসাকার গোলপোস্ট লক্ষ্য করে মোট ২০টি শট নেয়, যার মধ্যে ৬টি ছিল অনটার্গেট বা লক্ষ্যে। কিন্তু জাপানি তরুণ গোলকিপার রুই আরাকি আজ যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। আল নাসরের বিশ্বমানের সব আক্রমণ একাই নস্যাৎ করে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে ৬টি চোখ ধাঁধানো সেভ করে তিনি জোয়াও ফেলিক্স, ইনিগো মার্তিনেজদের গোলবঞ্চিত রাখেন। এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রুই আরাকি নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন। গত ২২ এপ্রিল ওসাকার মূল একাদশে সুযোগ পাওয়ার পর থেকে তিনি টানা তিনটি ম্যাচ ক্লিন শিট রেখেছেন এবং খেলা সাতটি ম্যাচের ছয়টিতেই একটির বেশি গোল হজম করেননি। ফলে মাঠের আধিপত্য ধরে রেখেও রোনালদোমানেদের রানার্সআপ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

১৮ বছর বয়সী জাপানি কিপারের দেওয়ালে থমকে গেল আল নাসর

ওসাকার কাছে হেরে রোনালদোর শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ

Update Time : ০৯:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আল নাসরে আসার পর প্রথম কোনো অফিশিয়াল ট্রফি জয়ের মিশন এবারও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। ঘরের মাঠে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুর ফাইনালে সবাইকে চমকে দিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে জাপানিজ ক্লাব গাম্বা ওসাকা। প্রথম সৌদি দল হিসেবে এই টুর্নামেন্টের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার লড়াইতে আল নাসরই ছিল নিরঙ্কুশ ফেভারিট। ঘরের মাঠের চেনা গ্যালারিতে দর্শকরা যখন একপেশে জয়ের উৎসব করার অপেক্ষায় ছিলেন, তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয় গাম্বা ওসাকা।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়েছিল জর্জ জেসাসের শিষ্যরা। কিন্তু ম্যাচের ৩০তম মিনিটে আল নাসরের রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দেন গাম্বা ওসাকার ফরোয়ার্ড ডেনিজ হামেট। সতীর্থ ইসাম জাবেলির নিখুঁত পাস ধরে দুর্দান্ত এক নিচু শটে আল নাসরের জাল কাঁপান তিনি। এই একটি গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। গোল হজম করার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা, তবে ওসাকার সুসংগঠিত রক্ষণের সামনে বারবারই তাদের আক্রমণ বাধাগ্রস্ত হতে থাকে।

 

আল নাসরের আক্রমণভাগের দুই প্রধান অস্ত্র ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও সাদিও মানের জন্য রাতটি ছিল চরম হতাশার। দুজনেই গোলের দেখা পেতে মাঠের সবটুকু ঢেলে দিয়েছিলেন। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই মানে প্রথম গোল করার সহজ সুযোগ পান, কিন্তু ওসাকার ১৮ বছর বয়সী তরুণ গোলকিপার রুই আরাকিকে পরাস্ত করার মতো জোর ছিল না তাঁর শটে। অন্যদিকে প্রথমার্ধে রোনালদো বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও ওসাকার চমৎকার ডিফেন্সের কারণে জালের দেখা পাননি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ৮৬তম মিনিটে রোনালদো সমতা ফেরানোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে তাঁর নেওয়া জোরালো শটটি গেন্তা মিউরা চমৎকারভাবে ব্লক করে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।

 

পুরো ম্যাচে ৬৮ শতাংশ বলের দখল নিজেদের পায়ে রেখেছিল আল নাসর। তারা গাম্বা ওসাকার গোলপোস্ট লক্ষ্য করে মোট ২০টি শট নেয়, যার মধ্যে ৬টি ছিল অনটার্গেট বা লক্ষ্যে। কিন্তু জাপানি তরুণ গোলকিপার রুই আরাকি আজ যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। আল নাসরের বিশ্বমানের সব আক্রমণ একাই নস্যাৎ করে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে ৬টি চোখ ধাঁধানো সেভ করে তিনি জোয়াও ফেলিক্স, ইনিগো মার্তিনেজদের গোলবঞ্চিত রাখেন। এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের মাধ্যমে রুই আরাকি নিজেকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন। গত ২২ এপ্রিল ওসাকার মূল একাদশে সুযোগ পাওয়ার পর থেকে তিনি টানা তিনটি ম্যাচ ক্লিন শিট রেখেছেন এবং খেলা সাতটি ম্যাচের ছয়টিতেই একটির বেশি গোল হজম করেননি। ফলে মাঠের আধিপত্য ধরে রেখেও রোনালদোমানেদের রানার্সআপ হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে।