ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিচ্ছেদ ও একাকীত্বের লড়াই শেষে নতুন করে নিজেকে চেনা

শৈশবের ক্ষত ও ‘ড্যাডি ইস্যু’ নিয়ে নোরার অকপট স্বীকারোক্তি

সংগৃহীত ছবি

 

বলিউডের গ্ল্যামার জগতে নোরা ফাতেহি মানেই আগুনের ফুলকি। তাঁর নাচের প্রতিটি মুদ্রা যেমন দর্শকদের মাতাল করে, তেমনি তাঁর চলন-বলন আর সৌন্দর্য সবসময়ই থাকে চর্চার কেন্দ্রে।

 

সম্প্রতি ‘কেডি : দ্য ডেভিল’ ছবির ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’ গানটি নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়লেও, এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে খবরের শিরোনামে এলেন এই মরক্কান সুন্দরী। কোনো নতুন আইটেম গান বা সিনেমা নয়, বরং নিজের জীবনের গভীর এক অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে জনসমক্ষে মুখ খুলেছেন তিনি।

 

 

সম্প্রতি এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নোরা তাঁর শৈশব, ভাঙা পরিবার এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও সাহসী কথা বলেন। বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত ঢাকা থাকে রহস্যের চাদরে, কিন্তু নোরা সেখানে ব্যতিক্রম। তিনি সরাসরি স্বীকার করেন, তাঁর মধ্যে এক ধরনের ‘ড্যাডি ইস্যু’ কাজ করে। ছোটবেলাতেই তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়, যা একটি শিশুর কোমল মনে কতটা গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে, তা নোরার কথাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

 

বাবার অনুপস্থিতিতে মায়ের কাছে বড় হওয়া নোরা জানান, ছোটবেলায় বাবাকে না পাওয়ার অভাব তাঁর মনে পুরুষদের প্রতি এক অদ্ভুত ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। এই পারিবারিক জটিলতা তাঁর পরবর্তী জীবনের প্রেম বা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

 

নোরার মতে, তিনি অনেক সময় সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে ভুল করতেন এবং অকারণেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন। শৈশবের সেই বিচ্ছেদের যন্ত্রণা তাঁকে এতটাই তাড়া করত যে, কোনো সম্পর্ক ভেঙে গেলে তা মেনে নেওয়া তাঁর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ত। একাকীত্বের ভয় থেকে বাঁচতে অনেক সময় তিনি ভুল সম্পর্কেও দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।

 

 

ব্যক্তিগত জীবনে কোরিওগ্রাফার টেরেন্স লুইস, অভিনেতা অঙ্গদ বেদি, প্রিন্স নারুলা কিংবা ফুটবলার আশরাফ হাকিমির সঙ্গে তাঁর নাম জড়ালেও নোরা সবসময়ই ছিলেন মৌন। এমনকি টি-সিরিজের কর্ণধার ভূষণ কুমারের সঙ্গে রটনাগুলোকেও তিনি কখনো প্রশ্রয় দেননি। তবে এবারের সাক্ষাৎকারে তিনি সম্পর্কের সেই না-বলা যন্ত্রণার কথা শেয়ার করে ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

 

 

জীবনের এই কঠিন সময়গুলোতে মা-ই ছিলেন তাঁর একমাত্র ভরসা। নোরা এখন বিশ্বাস করেন, কেবল একা থাকার ভয়ে কোনো সম্পর্কের বোঝা টেনে নেওয়া উচিত নয়। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কোনো সম্পর্কে টিকে থাকা আদতে নিজেরই ক্ষতি করা।

 

তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে এবং প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নিতে। আত্মভালোবাসা বা ‘সেলফ-লাভ’ যে একজন মানুষকে কতটা শক্তিশালী করে তুলতে পারে, নোরা এখন তার জীবন্ত উদাহরণ। অতীতকে পেছনে ফেলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে চলাই এখন এই বলিউড ডিভার একমাত্র লক্ষ্য।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

বিচ্ছেদ ও একাকীত্বের লড়াই শেষে নতুন করে নিজেকে চেনা

শৈশবের ক্ষত ও ‘ড্যাডি ইস্যু’ নিয়ে নোরার অকপট স্বীকারোক্তি

Update Time : ০৩:৪৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

বলিউডের গ্ল্যামার জগতে নোরা ফাতেহি মানেই আগুনের ফুলকি। তাঁর নাচের প্রতিটি মুদ্রা যেমন দর্শকদের মাতাল করে, তেমনি তাঁর চলন-বলন আর সৌন্দর্য সবসময়ই থাকে চর্চার কেন্দ্রে।

 

সম্প্রতি ‘কেডি : দ্য ডেভিল’ ছবির ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’ গানটি নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়লেও, এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে খবরের শিরোনামে এলেন এই মরক্কান সুন্দরী। কোনো নতুন আইটেম গান বা সিনেমা নয়, বরং নিজের জীবনের গভীর এক অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে জনসমক্ষে মুখ খুলেছেন তিনি।

 

 

সম্প্রতি এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নোরা তাঁর শৈশব, ভাঙা পরিবার এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও সাহসী কথা বলেন। বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত ঢাকা থাকে রহস্যের চাদরে, কিন্তু নোরা সেখানে ব্যতিক্রম। তিনি সরাসরি স্বীকার করেন, তাঁর মধ্যে এক ধরনের ‘ড্যাডি ইস্যু’ কাজ করে। ছোটবেলাতেই তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়, যা একটি শিশুর কোমল মনে কতটা গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে, তা নোরার কথাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

 

বাবার অনুপস্থিতিতে মায়ের কাছে বড় হওয়া নোরা জানান, ছোটবেলায় বাবাকে না পাওয়ার অভাব তাঁর মনে পুরুষদের প্রতি এক অদ্ভুত ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। এই পারিবারিক জটিলতা তাঁর পরবর্তী জীবনের প্রেম বা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

 

নোরার মতে, তিনি অনেক সময় সম্পর্কের গভীরতা বুঝতে ভুল করতেন এবং অকারণেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তেন। শৈশবের সেই বিচ্ছেদের যন্ত্রণা তাঁকে এতটাই তাড়া করত যে, কোনো সম্পর্ক ভেঙে গেলে তা মেনে নেওয়া তাঁর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ত। একাকীত্বের ভয় থেকে বাঁচতে অনেক সময় তিনি ভুল সম্পর্কেও দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।

 

 

ব্যক্তিগত জীবনে কোরিওগ্রাফার টেরেন্স লুইস, অভিনেতা অঙ্গদ বেদি, প্রিন্স নারুলা কিংবা ফুটবলার আশরাফ হাকিমির সঙ্গে তাঁর নাম জড়ালেও নোরা সবসময়ই ছিলেন মৌন। এমনকি টি-সিরিজের কর্ণধার ভূষণ কুমারের সঙ্গে রটনাগুলোকেও তিনি কখনো প্রশ্রয় দেননি। তবে এবারের সাক্ষাৎকারে তিনি সম্পর্কের সেই না-বলা যন্ত্রণার কথা শেয়ার করে ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

 

 

জীবনের এই কঠিন সময়গুলোতে মা-ই ছিলেন তাঁর একমাত্র ভরসা। নোরা এখন বিশ্বাস করেন, কেবল একা থাকার ভয়ে কোনো সম্পর্কের বোঝা টেনে নেওয়া উচিত নয়। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কোনো সম্পর্কে টিকে থাকা আদতে নিজেরই ক্ষতি করা।

 

তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে এবং প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নিতে। আত্মভালোবাসা বা ‘সেলফ-লাভ’ যে একজন মানুষকে কতটা শক্তিশালী করে তুলতে পারে, নোরা এখন তার জীবন্ত উদাহরণ। অতীতকে পেছনে ফেলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে চলাই এখন এই বলিউড ডিভার একমাত্র লক্ষ্য।