ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিপিসির নতুন নির্দেশনা কার্যকর, মজুদ ও অতিরিক্ত ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা

জ্বালানি তেল বিক্রিতে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ: বাইকে ২ লিটার, কারে ১০

 

 

ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। এখন থেকে গ্রাহকরা চাইলেই ইচ্ছামতো জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন না।

 

শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যানবাহনের ধরন অনুযায়ী তেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল একবারে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত কার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০-২৫ লিটার, লোকাল বাস বা পিকআপের জন্য ৭০-৮০ লিটার (ডিজেল) এবং দূরপাল্লার ট্রাক বা বাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল সংগ্রহের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদায়ের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নেতিবাচক খবরে আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ ভোক্তা ও ডিলারদের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মূলত এই কৃত্রিম সংকট এবং অননুমোদিত মজুদ ঠেকাতেই সরকার রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিপিসি আরও জানিয়েছে, তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত পালন করতে হবে। এখন থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল কেনার সময় অবশ্যই তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য সংবলিত রসিদ গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তীবার তেল নিতে গেলে আগের ক্রয়ের রসিদ বা বিলের মূল কপি জমা দিতে হবে। এছাড়া ডিলারদের জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা কোনোভাবেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি তেল সরবরাহ করতে পারবেন না এবং বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করতে হবে।

 

সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানির পার্সেল দেশে পৌঁছাচ্ছে। সংকটের অজুহাতে কোনো ফিলিং স্টেশন অতিরিক্ত মূল্য আদায় করলে তা আইনগত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। জনগণের আতঙ্ক হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপিসি দেশের সকল পর্যায়ের ভোক্তা ও ডিলারদের এই নির্দেশনা প্রতিপালনে সহযোগিতা কামনা করেছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিসির নতুন নির্দেশনা কার্যকর, মজুদ ও অতিরিক্ত ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা

জ্বালানি তেল বিক্রিতে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ: বাইকে ২ লিটার, কারে ১০

Update Time : ০৮:০৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

 

 

ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। এখন থেকে গ্রাহকরা চাইলেই ইচ্ছামতো জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন না।

 

শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যানবাহনের ধরন অনুযায়ী তেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল একবারে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত কার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০-২৫ লিটার, লোকাল বাস বা পিকআপের জন্য ৭০-৮০ লিটার (ডিজেল) এবং দূরপাল্লার ট্রাক বা বাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল সংগ্রহের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদায়ের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নেতিবাচক খবরে আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ ভোক্তা ও ডিলারদের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মূলত এই কৃত্রিম সংকট এবং অননুমোদিত মজুদ ঠেকাতেই সরকার রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিপিসি আরও জানিয়েছে, তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত পালন করতে হবে। এখন থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল কেনার সময় অবশ্যই তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য সংবলিত রসিদ গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তীবার তেল নিতে গেলে আগের ক্রয়ের রসিদ বা বিলের মূল কপি জমা দিতে হবে। এছাড়া ডিলারদের জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা কোনোভাবেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি তেল সরবরাহ করতে পারবেন না এবং বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করতে হবে।

 

সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানির পার্সেল দেশে পৌঁছাচ্ছে। সংকটের অজুহাতে কোনো ফিলিং স্টেশন অতিরিক্ত মূল্য আদায় করলে তা আইনগত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। জনগণের আতঙ্ক হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপিসি দেশের সকল পর্যায়ের ভোক্তা ও ডিলারদের এই নির্দেশনা প্রতিপালনে সহযোগিতা কামনা করেছে।