সংগৃহীত ছবি
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে নামলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় নিজে কোদাল হাতে মাটি কেটে দেশব্যাপী বিশাল ‘খাল খনন কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলার এই কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন।
সোমবার সকালে ঢাকা থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সড়কপথে তিনি সরাসরি দিনাজপুরের কাহারোলে কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত হন। দুপুর ১২টার দিকে তিনি সাহাপাড়ায় খালের পাড়ে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রী কেবল নামফলক উন্মোচন করেই ক্ষান্ত হননি, বরং নিজেই খালের ভেতরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে কর্মসূচির সূচনা করেন।
উদ্বোধন শেষে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি কথা আমরা রক্ষা করব। খাল খননের মাধ্যমে কৃষকের পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং দেশের কৃষি বিপ্লবে এটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
কাহারোল ও বলরামপুর এলাকার কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে সেচ সুবিধার অভাব ছিল। খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট দেখা দিত। প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করায় এলাকার মানুষ এখন সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন আলী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজে মাটিতে নেমে কাজ করেছেন, এটি আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। এই খালগুলো খনন করা হলে আমাদের আবাদি জমিতে ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।”
দিনাজপুর ছাড়াও একযোগে ৫৪টি জেলায় এই খনন কাজ শুরু হওয়ায় সারা দেশে কৃষি ও মৎস্য চাষে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
















