সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ময়মনসিংহে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালিত অটোরিকশা চালকরা। প্রায় এক মাস ধরে রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা। ক্ষুব্ধ চালকরা বুধবার সকালে দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পরে বিকেলে আবারও একই দাবিতে নগরীর তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং পুনরায় মহাসড়ক অবরুদ্ধ করেন।
ভোগান্তির বিবরণ দিয়ে নেত্রকোণার কেন্দুয়া থেকে আসা অটোরিকশা চালক শাহীন মিয়া আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “রাত ৪টা থেকে গ্যাসের জন্য রিফুয়েলিং স্টেশনে অপেক্ষা করছি। গত এক মাস ধরে আমরা এই মহা বিপদে আছি। এখন অবস্থা এমন যে নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার মতো গ্যাসটুকুও গাড়িতে পাচ্ছি না।” আরেক চালক রফিকুল ইসলাম জানান, রাত ৩টায় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস মেলেনি, এমনকি পাম্পের কাউকেও পাওয়া যায়নি। এদিকে গাড়ি চালিয়ে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চালক নাঈম হাসানসহ অনেকেই।
ফিলিং স্টেশন ও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে সংকটের গভীরতার কথা। ময়মনসিংহের স্টার ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ভানু চক্রবর্তী বলেন, “ভালুকা পর্যন্ত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ময়মনসিংহে এসে চাপের তীব্র স্বল্পতা দেখা দিচ্ছে। আমরা তিতাস থেকে গ্যাস পেলেই চালকদের দিতে পারব, কিন্তু কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা আমাদের জানা নেই।” অন্যদিকে ময়মনসিংহ তিতাস গ্যাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবির বলেন, “গ্যাস সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। জাতীয় পর্যায়ের সরবরাহের ওপর এটি নির্ভরশীল হওয়ায় আমাদের স্থানীয়ভাবে কিছু করার নেই। আমরা চালকদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পরও তারা সড়ক অবরোধ করেছেন।”
পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, গ্যাসের দাবিতে চালকরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন, তবে চালকদের বুঝিয়ে শান্ত করার পর সড়ক থেকে তারা সরে যান। বর্তমানে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ ময়মনসিংহের সবকটি অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
















