বৃদ্ধার নিবাস কক্ষ ছিল আবর্জনায় ভরা।
রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের নির্মম ও রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ছেলে ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ নিশ্চিত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বর্তমানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে অবিলম্বে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে প্রজ্ঞাপনে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, যদি তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার বর্তমান দায়িত্ব হস্তান্তর না করেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ নজিরবিহীন।
এর আগে আজ দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সরকারের কড়া অবস্থানের কথা পরিষ্কার করে জানান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক এবং স্পর্শকাতর। এই ঘটনায় তার ছেলে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই আইন ও নৈতিকতার ঊর্ধ্বে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।” প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই ওএসডির প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।
মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সন্তানের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার পরও একজন বৃদ্ধা মায়ের এমন পরিণতি সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে কোনো অবহেলা বা অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে, তা উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। এই প্রশাসনিক প্রত্যাহারের পর আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 












